মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আত্মসমর্পণকারী ইউনুছের বাড়ি থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল উদ্ধার!_ নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফয়েজুল ইসলাম মেম্বার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিপাত যাক,বাঙালি জাতি মুক্তি পাক এই স্লোগান নিয়ে বিশাল মানববন্ধন প্রেম করে তুমি প্রতিশোধ নিতে চেয়েছো?প্রয়াত যুবতীর চিঠি! ওব্যাট-প্রান্তিক লার্নিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা পেলো শীতবস্ত্র |বাংলাদেশ দিগন্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পেকুয়ায় সাংবাদিকদের মানবন্ধন |বাংলাদেশ দিগন্ত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবিতে টেকনাফে ছাত্রলীগের মানববন্ধন টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মোহাম্মদ ইসমাইলের মেয়র প্রার্থীতা বৈধ করেছেন হাইকোর্ট মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী খোকনের নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন হোয়াইক্যংয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন |বাংলাদেশ দিগন্ত

উখিয়ায় জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫, খুন ১ |বাংলাদেশ দিগন্ত

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোস্তফা, উখিয়া:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৫৩ বার পঠিত

কক্সবাজার-টেকনাফ ৭৯ কি মি সড়ক বর্তমানে মারাত্মক দুর্ঘটনা বেড়েছে, ধীরে ধীরে অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়েছে যানবাহন ও জনসংখ্যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা।

এদিকে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯২ জন। নিবন্ধিত রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের ১২ অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছে। স্থানীয় ও রোহিঙ্গাসহ এই দুই উপজেলায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে জনঅধ্যুষিত এলাকা উখিয়া-টেকনাফ।

এসব রোহিঙ্গার ভরণ-পোষণ, খাদ্য সরবরাহ সার্বিক সাহায্যে নিয়োজিত এসব এনজিও সংস্থা ও দুই উপজেলার আইনশৃংখলা বাহিনী তদারকিতে ব্যবহার হচ্ছে ৫ হাজারের অধিক যানবাহন ও মালবহন গাড়ি।
সব মিলিয়ে বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফে প্রতিদিন চলাচল করছে ২০ হাজারের মতো যানবাহন, এ নিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের ছেলে-মেয়ে সঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে যেতে নানাভাবে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ হিসেবে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় এগিয়ে আসা এনজিওদের ব্যবহৃত যানবাহন ও ক্যাম্পে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি এবং নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ কাজে যানবাহন চলাচলের কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

গত ১৯ জানুয়ারি রাত ৯ টায় উখিয়ার পালং গার্ডেন এলাকায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল গ্রামের জাফর আলমের ছেলে, কক্সবাজার সিটি কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র এহসানুল হক মিসেল (২৩) কে চট্টগ্রাম মেডিলকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২০ জানুয়ারি রাত ২:৩০ টার দিকে মৃত্যু হয়।

তাছাড়া ১২ জানুয়ারি ভোর ৬ টায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার কাস্টমস টিভি টাওয়ার এলাকায় টেকনাফমুখী সেন্টমার্টিন পরিবহনের সাথে টমটমের (ইজিবাইক) মুখোমুখি সংঘর্ষে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের জাফর আহমেদ (৩২) এবং নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মনির আহমদ (৩০) মৃত্যু হয়।

গত ৪ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার পালংখালী এলাকায় কক্সবাজার থেকে টেকনাফমুখী ট্রাকের সঙ্গে হোয়াইক্যং থেকে উখিয়ার কুতুপালংগামী এক মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী র‌্যাব- ১৫ এর সদস্য লেন্সনায়ক তরিকুল ইসলাম নিহত হয়।

২৭ জানুয়ারি রাত ৮ টায় উখিয়ার ইনানী মোহাম্মদ শফির বিল এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়কে আরআরআরসি অফিসের মাইক্রো ও যাত্রীবাহী নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোঃ বেলাল নামের এক স্থানীয় যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত বেলাল নসিমনের চালক নিদানিয়া এলাকার বাসিন্দা।

তাছাড়া গত ১০ জানুয়ারি খুন হয় উখিয়ায় ফোরকান আহমদ ওরফে কালু (২২) নামের এক স্থানীয় দোকান কর্মচারীকে জবাই করে টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়েছে অপর সহযোগী রোহিঙ্গা কর্মচারী। নিহত দোকান কর্মচারী উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার বশির আহমদের ছেলে।

উখিয়া শাহপুরী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মারুফ আহমেদ বলেন, বেপরোয়া গাড়িচালনা এবং সড়ক নির্দেশনা ও বিভাজন না থাকা দুর্ঘটনার মূল কারণ। তা ছাড়া হাইওয়ে পুলিশের লোকবলও কম থাকায় তাদের পক্ষে হাইওয়ে পাহারা দেওয়া কষ্ট হয়েযায়।
তিনি আরও বলেন, অনেক চালক সাংকেতিক চিহ্নও (সাইন) ঠিকমতো বোঝেন না। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গাড়িচালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা হয়।
চালকেরা বলছেন, সড়কের ওপর যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাজার আর চলাফেরায় অসাবধানতার কারণেই দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে।
একজন চালক বলেন, বড় কারণ হলো, পথচারীর অসতর্কতা। দ্বিতীয় কারণ হলো রাস্তাঘাট ও দোকানপাট।

একজন যাত্রী বললেন, সাধারণত দিনে চলাচলকারী বাসগুলোর চালকেরা একটু বেশি বেপরোয়া থাকেন। তবে দূরপাল্লার চেয়ে আঞ্চলিক রুটের চালকেরা দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী। তিনি আরও বলেন, যখন ডে-কোচে যাই তখন ভয় লাগে। গাড়িগুলোর গতি দেখে মনে হয়, কেউই আইন মানেন না।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহম্মেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করেছে। পাশাপাশি হেলমেট ব্যবহার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান আইনগুলোর প্রয়োগ সড়কে দুর্ঘটনা কমাবে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা কোন অপরাধে জড়িত না হয় সেজন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে৷ যদি কাঁটাতারের বেড়া থেকে বের হয়ে বেআইনি কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!