বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

টেকনাফের হ্নীলা ষ্টেশন কেন্দ্রিক মাদক কারবারী সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় |বাংলাদেশ দিগন্ত

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৩৯ বার পঠিত

হ্নীলা ষ্টেশনের সামাজিক সংগঠনের নেতা, প্রভাবশালীদের ছত্র-ছায়ায় থাকা ব্যক্তি, আইন-শৃংখলা বাহিনীর কথিত সোর্স, সহযোগী টমটম চালক এবং আমিরাবাদ, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, পটিয়া হতে আগত বিভিন্ন ষ্টোর, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিক্স সামগ্রীর ব্যবসায়ীদের আড়ালে গঠিত সংকরায়ণ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন মালামাল আনা-নেওয়া এবং আর্থিক নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীকে বোকা বানিয়ে এসব অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই সিন্ডিকেটের এক সদস্য র‌্যাব-৭ এর হাতে বিপূল পরিমাণ ইয়াবা ও মোটর সাইকেলসহ আটকের ঘটনায় এক কাপড় নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে রাজপ্রাসাদ ও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হওয়ার কিচ্ছা-কাহিনী প্রকাশ পাচ্ছে।
জানা যায়, হ্নীলা ষ্টেশনের এক দোকানদার গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টারদিকে র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল ইয়াবা ও মোটর সাইকেলসহ আটক করে বলে র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র এএসপি মোঃ মাহমুদুল হাসান মামুন নিশ্চিত করেন। তাকে স্থানীয় থানায় জব্দকৃত ইয়াবা ও মোটর সাইকেলসহ সোর্পদ করে র‌্যাব।
এই ঘটনার পর হতে হ্নীলা ষ্টেশনে মুখোশের আড়ালে ভাল কাপড় পরিধান করে থাকা বেকার জনগোষ্ঠী এবং আমিরাবাদ, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, পটিয়া হতে ভাসমান হয়ে আগত ব্যবসায়ীদের হঠাৎ করে কয়েকটি দোকানের মালিক, রাজপ্রাসাদের মতো ঘর-বাড়ি এবং অঢেল টাকার উৎস কোথায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। হ্নীলা বাসষ্টেশন এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের এখনো ১৫/২০ জন কৌশলী মাদক কারবারী সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ব্যাপারে হ্নীলা ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু জানান,দীর্ঘদিন ধরে মুখোশের আড়ালে এসব দোকানীরা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান কিছুটা ভাটা পড়ায় কর্মচারী থেকে ইয়াবার বদৌলতে মালিক বনে যাওয়া এসব কারবারীরা আগের চেয়ে আরো বেশী ইয়াবা মজুদ এবং পাচার করছে। তিনি এসব অসাধুদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
উপরোক্ত এলাকার মাদক কারবারীরা মূলত, হ্নীলা জাদিমোরা, শালবাগান ক্যাম্প, নয়াপাড়া, মোচনী, লেদা, আলীখালী, রঙ্গিখালী, রাসুলাবাদ, ফুলের ডেইল, পূর্ব সিকদার পাড়া, পশ্চিম সিকদার পাড়া, ছোট লেচুয়াপ্রাং, মইন্যাজুম, পানখালী, সুলিশ পাড়া, হোয়াব্রাং, মৌলভী বাজার, আলী আকবর পাড়া, খারাংখালী, মহেশখালীয়া পাড়া, কম্বন ও নয়াবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টের পণ্য ক্রেতাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পর কৌশলে মাদকের চালান সংগ্রহ করে। সুযোগ বুঝে ফেরতযোগ্য মালামালের ভেতরে ফিটিং করে এসব মাদকের চালান পাচার করা হয় বলে একাধিক সুত্রের দাবী। তাই পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হ্নীলা ষ্টেশন কেন্দ্রিক মাদক চক্রের মুখোশ উম্মোচন করা দরকার বলে সচেতন মহল মনে করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!