বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আত্মসমর্পণকারী ইউনুছের বাড়ি থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল উদ্ধার!_ নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফয়েজুল ইসলাম মেম্বার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিপাত যাক,বাঙালি জাতি মুক্তি পাক এই স্লোগান নিয়ে বিশাল মানববন্ধন প্রেম করে তুমি প্রতিশোধ নিতে চেয়েছো?প্রয়াত যুবতীর চিঠি! ওব্যাট-প্রান্তিক লার্নিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা পেলো শীতবস্ত্র |বাংলাদেশ দিগন্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পেকুয়ায় সাংবাদিকদের মানবন্ধন |বাংলাদেশ দিগন্ত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবিতে টেকনাফে ছাত্রলীগের মানববন্ধন টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মোহাম্মদ ইসমাইলের মেয়র প্রার্থীতা বৈধ করেছেন হাইকোর্ট মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী খোকনের নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন হোয়াইক্যংয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন |বাংলাদেশ দিগন্ত

দেশে প্রতিবছর ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে ৯১ হাজারের বেশি মানুষ |বাংলাদেশ দিগন্ত

বিডি দিগন্ত ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৩৬ বার পঠিত
৩ বছর যাবৎ পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা করেও রোগটির আসল কারণ ধরা যায়নি। অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যায়ের পরীক্ষায় জানা যায়, পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত তিনি। এরপর তিনি সরকারি কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে সেবা নিতে হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে। তার স্বজনরা জানান এই কয়েক বছরে তার চিকিৎসা ব্যয় হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

বিভাগীয় পর্যায়ে এখনও বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি না হওয়ায় রোগীদের ঢল নামে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটে। তবে দেশের ২৭ ধরনের ক্যান্সার রোগীদের জন্য এখানে রয়েছে মাত্র  ৩০০ শয্যার হাসপাতাল। এতে চিকিৎসার নাগাল পেতে যে সময় লাগছে তার আগেই ক্যান্সার ছড়িয়ে যাচ্ছে ভুক্তভোগীর পুরো শরীরে। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডক্টর টিভি।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, ‘আমরা লালমনিরহাট দিনাজপুর থেকে এই হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও পাচ্ছিনা চিকিৎসা। তাই আমাদের সীমাহীন কষ্টের দিন গুণতে হয়।’

দেশে ক্যান্সার নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে নিজস্ব কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তবে ক্যান্সার সম্পর্কিত অনলাইন ডাটাবেজ গ্লোবোক্যানের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার মধ্যে ৯১ হাজারের অধিক মানুষই মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিচালক বলছেন প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও বেশি।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিচালক ডা. কাজী মোস্তাক হোসেন বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই থেকে আড়াই লাখ। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে পারছেন মাত্র ৫০ হাজারের মতো।

তিনি বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার একটা অংশ রেডিওথেরাপি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের দেশে ৭০ ভাগ ক্যান্সার রোগীর রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। এর জন্য আমাদের মেশিন দরকার ২৫০টি। তার বিপরীতে মেশিন রয়েছে মাত্র ৫৭টি। তার মধ্যে অনেক মেশিন অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসার অপ্রতুলতা ক্যান্সার নির্মূলে বড় বাধা।

গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন রোগীর বছরে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে ৬ লাখের অধিক। তবে ৮টি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপন হলে রোগীদের ভোগান্তি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মত তাদের।

এ বিষেয়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, আমরা শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের জন্য কিভাবে বাংলাদেশ মানের সেবা নিশ্চিত করতে পারি সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ৮টি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ করছে। এটি আগামী তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে জেলা পর্যায়ের রোগীদের কষ্ট লাগব হবে অনেকটা।

গ্লোবোক্যানের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বিশ্বে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৮০ লাখের অধিক। যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ১ কোটি মানুষ। এগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফুসফুস ক্যান্সার। তারপরেই রয়েছে কোলোরেক্টাল, স্টোমাক, লিভার, ব্রেস্ট, খাদ্যনালী, প্যানক্রিয়াস ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!