সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

মাদকসম্রাট ১ নম্বর মেরুন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমান কবির রতনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
  • ৪১০ বার পঠিত

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অন্তর্গত দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমান কবির রতনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এর সত্যতা ইতিমধ্য অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ।

সিটিজি ক্রাইম টিভির অনুসন্ধানে জানা যায়, অত্র ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতসহ বয়স্ক ভাতার কার্ড, ভিজিবি কার্ড, কাবিখা প্রকল্পের, প্রতিবন্ধী কার্ড, বিধবা কার্ড, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদপত্র তৈরিতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চেয়ারম্যান।

মাদকসম্রাট রতন প্রতিবন্ধী ভাতা জোর করে লুটপাট করে খেয়ে নিচ্ছে। প্রতিবন্ধী কে মারধর করছে। প্রতিবাদ করলে মেরে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়েছে। হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে আর্তনাদ করে কেদেছে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ও তার ভাই। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এ প্রতিবেদককে জানান…
অনুসন্ধানে আরো ধরা পড়েছে এই রতন অবৈধভাবে অবৈধ কারবার ও অর্থ লুটপাট করে কোটি কোটি টাকার বাড়ি তৈরি করেছে। প্রতিটি বাড়ি তিন থেকে পাঁচ তলা বিল্ডিং বিশিষ্ট।

এই কোটি টাকার উৎস কোথা থেকে পেলেন চেয়ারম্যান রতন। তার বসত বাড়ির গেটের সামনের গেটের দাম ৫ লক্ষ টাকা, ভেতরের গেট বা দরজার দাম ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা প্রতিটি। সাধারণত কোনো সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীর বাড়ির ফটকে এমন গেট লক্ষ্য করা যায় না। অথচ একজন সাধারন চেয়ারম্যান হয়ে এত কোটি টাকার বাড়ি এবং এমন বিলাসবহুল গেট কিভাবে তার বসতবাড়িতে ব্যবহার করতে পারে।

এই টাকার উৎস কোথায়? দুদক নিশ্চয়ই এ বিষয়ে তদন্ত করবেন।
মাদকসম্রাট প্রতিবন্ধীকে মারধরকারী কোটি কোটি টাকা অর্থ লুটপাট করে সরকারের রাজস্ব ছয় নয় করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া চেয়ারম্যান এর সহযোগী কেরানি ইয়াবা বিল্লাল। এই ইয়াবা বিল্লাল কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সহ আটক হয়েছিল অথচ তাকে চেয়ারম্যান রতনের সহযোগী করে তার দপ্তরে রেখে দিয়েছে।

তার সহযোগী করে রেখে মাদক এবং ব্যবসা করছে ইয়াবা ব্যবসায়ী মাদকসম্রাট চেয়ারম্যান রতন ও তার সহযোগী বিল্লাল।তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট। বিল্লালের ইয়াবা নেটওয়ার্ক দেশজুড়ে। মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ডে তারা ডন হিসেবে পরিচিত। কেউ কেউ বলেন গডফাদার।

তাদের হাতেই দেশের মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। অনেকে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা। ওয়ার্ড, থানা বা মহানগর নেতা থেকে খোদ সংসদ সদস্য পর্যন্ত। জড়িত আছেন সিআইপি খেতাব পাওয়া ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সম্প্রতি দেশের মাদক গডফাদারদের একটি তালিকা প্রণয়ন করে। দেশজুড়ে যার সংখ্যা ১৪১ জন। এতে ক্ষমতাধর অনেক রাজনীতিকের ভয়ংকর কুৎসিত চেহারা বেরিয়ে আসে। ৩১ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়।

আরও জানা যায়, বাল্যবিবাহ সহ বিভিন্ন সালিশ বৈঠকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের পক্ষ অবলম্বন করেন তিনি।এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে নবায়নকৃত প্রতিটি ঘর থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধান সংগ্রহ অভিযানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

চেয়ারম্যান রতন ও দীঘিনালা উপজেলার কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
জানা যায়, তালিকায় নাম ছিল না প্রকৃত কৃষকদের। কৃষক নয় এমন অনেকেই এমন অনেকেরই নাম ছিল ধান সংগ্রহের তালিকায়। এরা ছিল চেয়ারম্যানের স্বজন। সোলার বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিয়েও দুর্নীতি শেষ নেই রতন চেয়ারম্যানের। দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্ষেপ করে বলেন, ১০ বছর যাবত আমি সভাপতি। আমি সোলার পাইলাম না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বলেন, সোলার বরাদ্দ তালিকায় তার নাম, পিতার নাম, আইডি কার্ড নম্বর ছিল। কিন্তু সে সোলার পায়নি। এক নম্বর ওয়ার্ডের কোটিপতি জামান্ শেখ, ইউসুফ তালুকদার, জমির আলী, রকিবুল ইসলাম অদৃশ্য হস্তক্ষেপে পেয়ে গেছে সোলার। এ সবই হয়েছে চেয়ারম্যান রহমান কবির রতনের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগর পাড়া রাস্তার উন্নয়ন ও রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ কাজের ২০১৮-১৯ বরাদ্দ পেয়েছে তবে কোন কাজ হয় নাই। ভিজিডি সুবিধাও দেওয়া হয় নাই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভূমির গৃহহীন মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বরাদ্দ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে রতন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। একজনের নাম একজনের নামে ঘর বরাদ্দ দিয়ে অদৃশ্য কারণে তা অন্যজনকে দিয়েছেন। ইউপি সদস্য শাহ আলম সজীবের মাছের খামারের পাশে নির্মিত হয়েছে সরকারি প্রকল্পের ঘর। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসী সরকারের উচ্চ মাধ্যমিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আমাদের আরোও অনুসন্ধান চলছে। তৃতীয় পর্বে আসবে আরও তথ্যবহুল প্রতিবেদন।জানতে হলে চোখ রাখুন সিটিজি ক্রাইম টিভির পর্দায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!