সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০২:২৯ অপরাহ্ন

যেভাবে অপরাধ কমানো যাবে;ইন্সপেক্টর ইমাউল হক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৮৯ বার পঠিত
কেন তারা পাহাড়ে?অপরাধের কারবারে! 
পরিচিত অনেকেই ফোন করে পুলিশি পরামর্শ চায়।কিন্তু তাঁরা আমার লেখা পড়বে না,কারণ নামি-দামি লেখক আর পদবী ছাড়া বা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ছাড়া কারো লেখাতো লেখা-ই না।আর ফোনে সহজলভ্য।
পরিচিত মানুষ আর কি-ই বা জানে।পাঠক সংকটের কারণে বিব্রত। কিন্তু কি করবো, ফেসবুক এ লিখতে তো কাগজ,কলম লাগে না।তবুও এই লেখার এক দশমাংশ প্রিন্ট করে মেনে চললে আগামি দশ বছর থানা পুলিশে যাওয়া লাগবে না বলে ধারণা করছি।
কাল্লু তুই জব্বর আলী কে চিনিস না। তোর ভাই বাক্কার কে পেতে হলে ৫ লাখ টাকা নিয়ে কালা  পাহাড়ে আয়।আর হ্যাঁ পুলিশ কে বলবি না।বলেও লাভ নেই,কালা পাহাড়ে পুলিশ আসতে একদিন লাগবে।তার আগেই তোর ভাইকে পাহাড়ের উপর থেকে ফেলে দেব”
এই কথা শোনার  পর কাল্লু আর থাকে ।টাকা দিয়ে ভাইকে নিয়ে আসে । আর জব্বর এর মেয়ে মারিয়া কে অপহরণ করে  ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে কয়লা পাহাড়ের গুহায় আসতে বলে””
তাহলে কেন তারা পাহাড়ে? পাহাড়ে কি হয়? পাহাড়ের নাম আর যাওয়ার রাস্তা কেমন ? তারা কখন কি করে ? তাদের অস্ত্র কয়টি? নির্জন স্থান যেখানে পুলিশ যেতে একদিন লাগে তার আগেই চুড়া থেকে ভিকটিম কে ফেলে দিবে ?সব সুবিধা-ই তাদের অনুকূলে।
নিজ দেশের বাহিনী দ্বারা চরম নির্যাতিত হয়ে রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রিত । নাফ নদী পাড় হয়ে বা রহমতের বিল দিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে উখিয়ার পাহাড়ের মধ্যে। অনেক শরণার্থী ইচ্ছে করেই দুর্গম  পাহাড়ে আস্তানা করেছে। যাতে করে অপরাধ করা যায়। কিন্তু অল্প কয়েকজন রোহিঙ্গা হয়েছে অপরাধী। তারা কিন্তু নিজেদের শরণার্থীদের-ই অপহরণ করে ,ধর্ষণ করে ,চাঁদা বাজি করে ।
একই লাইনে নির্যাতিত হয়ে সেখানে কিছু করতে পারেনি আর এখানে তারই সাথে শরণার্থীর রিলিফের টাকা ছিনতাই করছে আর সমব্যাথার মানুষদের নির্যাতন করছে ।এতো রীতিমতো কাপুরুষের কাজ ।এক ধরণের অসুস্থতাও বটে।
এগুলো করার জন্যই তারা পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। কারণ তারা নিজেদের শরণার্থী দের হর্তাকর্তা মনে করে ।অন্য দেশের ভূমিতে সন্ত্রাসীর ভুমিকা রীতিমতো বহিষ্কারের অপরাধ।সমতল ভূমিতে তারা অপরাধ করতে পারবে না ।যেমন ভাসানচরে কোনো সুযোগ হবে না।
তাদের মধ্যে অপরাধী সংখ্যায় কম আর এদেশের পুলিশের কাছে সব অপরাধী ই ধরা পড়ছে । বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ দমনে ও নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে রোলমডেল। পাহাড়েও সফল অভিযানে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ নিয়মিত গ্রেফতার হচ্ছে।
তাদের অপরাধ কার্যক্রম কিন্তু অন্যান্য অপরাধীর মতই ।একই মডাস অপারেন্ডি। অপরাধ বিজ্ঞান মতে অপরাধ সংঘটিত হতে হলে ন্যূনতম তিনটি উপাদান দরকার হয়।১) পরিবেশ, (মানে স্থান) সময় কাল ,অবস্থা ইত্যাদি, ২)অপরাধী, ৩) অপরাধের শিকার অর্থাৎ ভিকটিম।
ভিকটিম:
সাধারণত নারী-শিশু ও দুর্বল চিত্তের ব্যক্তি ভিকটিম হতে পারে। আবার যার ধন- দৌলত, টাকা,বাড়ি-গাড়ি, রূপ সৌন্দর্য আছে, তিনি চুরি, ডাকাতি,খুন ,ছিনতাইয়ের ভিকটিম হতে পারেন। যার ক্ষমতা নেই  তিনি  ক্ষমতার  দ্বারা ভিকটিম হতে পারেন। যার পদ নেই  তিনি উর্ধ্বতন পদের দ্বারা ভিকটিম হতে পারেন। শত্রু,  বন্ধু বা পেশাদার অপরাধীর দ্বারা ভিকটিম হতে পারেন। সৌন্দর্য অথবা নিজের গুণ ,জ্ঞান ,নাম ,যশ ,খ্যাতি, অন্যের ঈর্ষার কারণ হলে ভিকটিম হতে পারেন।
ভিকটিম হওয়া থেকে  সতর্ক থাকলে অপরাধ সংঘটিত হবে না।। এটা মোটামুটি সহজ।
অপরাধী
বিত্ত-বৈভব ,নাম ,যশ ,সম্মান ,উচ্চাসন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ,লোভ ,লালসা থেকে অপরাধী মন মানসিকতা সৃষ্টি হতে পারে। অপরাধ মনের কুপ্রবৃত্তি, ভারসাম্যহীন চিন্তা-চেতনা ,অবৈধ প্রাপ্তির ধ্যানধারণা, সমাজে ,রাষ্ট্রে নিজেকে তুলে ধরার যোগ্যতাহীন চিন্তা-চেতনা থেকে মানুষ অপরাধ করে।
কেউ ঠকে প্রতারিত হলে,দেশান্তর হলে , অপমানিত হলে, প্রাপ্ত জিনিস না পেলে, অভাববোধ, হতাশা ,শক্তির দাপটে শক্তিহীনতা,যোগ্য হয়েও অযোগ্য থাকা  ইত্যাদি কারণে অপরাধী হয়ে ওঠে। নিজেকে এ সব থেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে অপরাধী হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই।
পরিবেশ:
এটি অপরাধ সংঘটনের  ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।ভিকটিম  ও অপরাধী তো পরিবার, সমাজ, পরিবেশের মধ্যেই ঘুরপাক খায়।
ধরা যাক! অপরাধী ধর্ষণ করবে, তাহলে তার সুনির্দিষ্ট একটি জায়গা যেমন নির্জন স্থান বা বদ্ধ ঘর, ভিকটিমকে একা পাওয়া, যেখানে লোক চলাচল কম ,বিশেষ করে রাত্রিবেলা, বা ভিকটিমের ছবি মোবাইলে ব্ল্যাকমেইলিং করা, বা যেখানে চিৎকার-চেঁচামেচি করলেও কেউ জানতে না পারা, বা ছিনতাই করতে গেলে নির্জন রাস্তায় রাত্রি বেলা, যেখানে পুলিশের টহল নেই, জনসমাগম কম, বা ভিকটিম একা চলাফেরা করবে, বা খুন করলেও কেউ দেখবে না, বা কাজ করার কথা বলে চা মিষ্টি খাওয়ার নাম করে ঘুষ গ্রহণের চিন্তা ইত্যাদি, অপরাধ স্থান ,কাল ,পাত্র সময় সুযোগ, কৌশল ব্যবহার করে অপরাধী ভিকটিমকে শিকার  করতে পারে।
সামাজিক অবস্থান এমন ভীত যে অপরাধ করলেও পরিবেশ-পরিস্থিতি মানানসই হবে, বা  পরিবেশ থেকে বিরূপ কোনো প্রতিক্রিয়া  আসবেনা, বা পরিবেশ পরিস্থিতি,চিত্ত বৃত্ত ,দর্শন, অক্ষ, সমঝোতা, বিচার সালিশ সমষ্টিগত কর্মকাণ্ড অপরাধীর জন্য সুবিধাজনক হবে।
অধিকাংশ শরণার্থীর আগমন পাহাড়, নদী,জংগল,মরু এলাকা দিয়ে ঘটে। তাদের গমনাগমন এর ইতিহাস দেখলে চোখে পানি আসে ।কিন্তু তাদের মধ্যে-ই থাকে অপরাধী। তারা কিন্তু শরণার্থী ভাবে না ।তারা অসহায়  শরণার্থীদের  লুডু খেলার সাপের মত গিলে ফেলছে । পৃথিবীর ৭:৫ কোটি শরণার্থীর মধ্যে বাংলাদেশে হয়তো ৮-১০ লাখ আছে ।বাংলাদেশ পুলিশ শরণার্থীদের গিলে খাওয়া সাপ শিকারে খুবই পারদর্শী। আর এটা দেখে দেশের অন্যান্য অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। পাহাড়ে থেকেই তারা রক্ষা পাচ্ছে না আর সমতলের অপরাধী ধরাত সময়ের ব্যাপার।
আর ধৈর্য ধরে পড়া পাঠক দের বলতে চাই,ভিকটিম হওয়া থেকে সতর্ক থাকা অথবা অপরাধী হওয়া থেকে বিরত থাকা একটি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত চেষ্টায় সম্ভব ।কিন্তু  সমস্ত ব্যক্তি বা  গোষ্ঠী সবাই মিলে পরিবেশটাকে সমুন্নত রাখলে  অপরাধ প্রক্রিয়াটাকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
অপরাধের তিনটি উপাদান, যদি যেকোনো প্রচেষ্টায় একটি উপাদানকে অনুপস্থিত রাখা যায়,তাহলে অপরাধ সংঘটিত হবে না।তাই “পরিবেশ“নামক উপাদানটাকে অনুপস্থিত রাখতে সবার ভুমিকা দরকার। সে দরকারে আমার আপনার সবার ই দরকার।
মোঃ ইমাউল হক পিপিএম
ইন্টেলিজেন্স এন্ড মিডিয়া সেল
১৪ এপিবিএন কক্সবাজার। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs