বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে ভারী বর্ষণের ঢলে পানিবন্দী ৭ হাজার পরিবার

মো:ওসমান গনি,লালমনিরহাট:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০
  • ৪৩৫ বার পঠিত

ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী এলাকার ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় এসব পানিবন্দি পরিবারগুলো পড়েছে বিপাকে। উঠতি ফসল ডুবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তিস্তা পাড়ের কৃষকরা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের দিনের ভারি বর্ষণে গত শুক্রবার সকালে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীর বাম তীরে জেলার ৫ উপজেলার ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তবে শনিবার (২৭ জুন) সকাল থেকে তিস্তার নদীর পানি কিছুটা কমে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট ডুবে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে একাধিক চরাঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধগুলো। চৌকি ও খাটের উপর মাচাং বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পানিবন্দি পরিবারগুলো।

সেখানে পানির নিচে তলিয়ে গেছে নলকূপ। শুকনো খড়ি না থাকায় এবং চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করে খেতে পারছে না পানিবন্দি পরিবারগুলো। ফলে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে বন্যা কবলিত এলাকায়। অনেকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাধের উঁচু স্থানে, কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, শিশু,ও গবাদি পশু-পাখি নিয়ে।

এদিকে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরে বাদাম ও ভুট্টাসহ নানান জাতের সবজি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করত চরাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই গবাদি পশু পালন ও মাছ চাষ করেও সংসারের চাকা সচল রেখেছেন। কিন্তু চরাঞ্চলের চাষিদের উঠতি এসব ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।একধিক মাছের প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে সকল মাছ।

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপদসীমার ১৮ থেকে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকেল ৩টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। ব্যারেজ রক্ষার্থে সব জলকপাট খুলে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে তিস্তার নদীর পানি কমে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

  • লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। ত্রাণ পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!