বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

হোয়াইক্যংয়ে আগুনে কেড়ে নিল দুই ভাইয়ের শেষ ঠিকানা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২
  • ২৪৩ বার পঠিত

সাইফুদ্দীন আল মোবারক, ইবরাহীম মাহমুদ:

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুই ভাইয়ের বসতবাড়ি।সোমবার (২৮ মার্চ)দুপুর ২টারদিকে হোয়াইক্যং ইউপির উত্তর কানজর পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।প্রায় এক ঘন্টা পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।ততক্ষণে মছন আলীর দুই পুত্র মৃত বাদশাহ মিয়া ও নুরুল আমিনের শেষ ঠিকানা;বসতবাড়ি দুইটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ভূক্তভোগি নুরুল আমিন জানান,সকাল থেকে ঘরে কেউ ছিলো না। হঠাৎ দুপুর দুইটার দিকে আমার ঘরে আগুন দেখে পাশের বাড়ির মহিলারা চিৎকার করতে থাকে।তখন আমার ও বড়ভাই মৃত বাদশাহ মিয়ার ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে ।প্রায় এক ঘন্টা পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি ।এতে আমরা দুই পরিবারের প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভূক্তভোগি নুরুল আমিন আরো বলেন,আমি পুরুষ মানুষ হিসেবে কষ্টে বুকফেটে গেলেও কাউকে চোখের পানি দেখাতে পারছি না।দুঃখের কথা কারে বুঝাবো? যদি সরকারি কোনো সহযোগিতা পায়,তাহলে সেটার উপর ভর করে কোনোমতে আবারো চলার পথ খুলবে বলে আশা করছি।তবে ঘরটিই ছিল আমার শেষ ঠিকানা ।হতাশার সুরে নুরুল আমিন প্রতিবেদককে জানান,আমি তো পুরুষ মানুষ,লজ্জায় কারো কাছে যেতেও পারছি না !তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আমার দলের লোকজনদের পুড়ে যাওয়া ঘরটি দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি ।

মৃত বাদশাহ মিয়ার স্ত্রী বলেন,আমার ঘরের সবকিছু আগুনে কেড়ে নিল।আয়ের উৎস বলতে পৃথিবীতে কিছুই নেই।মৃত্যুর আগে স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িতে ইজ্জতের সাথে কোনো রকম জীবন-যাপন করছিলাম,এখন সেটাও কেড়ে নিল আগুনে।স্বামী বা ছেলে সন্তান এই পৃথিবীতে কোনো উছিলা থাকতো,তাহলে পুড়ে গেলেও আবারো নতুন করে ঘরবাড়ি গোছানোর আশা রাখতে পারতাম।এখন নেই স্বামী,নেই ছেলে সন্তান, আল্লাহ ছাড়া ভরসা স্থল বলতে কিছুই নেই ।এসব কথা বলার সময় তাঁর চোখ দিয়ে বৃষ্টির ন্যায় অঝোরে পানি পড়তে থাকে।কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বামী হারা এই বিধবা মহিলা।

হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন,ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পরিদর্শনে গিয়েছি এবং আগামিকাল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)পারভেজ চেীধুরী জানান,আমাকে চেয়ারম্যান সাহেব অবহিত করেছেন,ওনাকে আপাতত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি ।পরবর্তীতে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় দেখবো।দেখি কোনো মাধ্যমে তাঁদেরকে ঘর করে দেয়া যায় কিনা !

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,হোয়াইক্যং,হ্নীলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস না থাকায় কারো বসতঘরে আগুল লাগলে সহজেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না ।কারো বসতঘরে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়,কিন্তু তাঁরা আসতে আসতে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হোয়াইক্যং,হ্নীলায় অন্তত একটি দমকলের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়ারা।

উত্তর কানজর পাড়া এলাকার গ্রাম্য ডাক্তার আক্তার জানান,বিগত দু’য়েক মাসের মধ্যে কয়েকবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে ।হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখারী পূর্ব মহেশখালীয় পাড়া এলাকায় আগুন লেগে প্রায় ৮ থেকে ১০টি বসতবাড়ি পুড়ে গিয়ে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এর আগে হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার এলাকায় চারটি বাড়ি আগুনে পুড়ে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

হোয়াইক্যং ও হ্নীলা এই দুই ইউনিয়নে কোনো ফায়ার সার্ভিস না থাকার ফলে কারো ঘরে আগুন লাগলে টেকনাফে থাকা ফায়ার সার্ভিসগুলো কোনো কাজে আসতেছে না ।দ্রুত সময়ে এই দুই ইউনিয়নে অন্তত একটি হলেও দমকলের ব্যবস্থা করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের নিকট দাবি জানান গ্রাম্য চিকিৎসক আক্তার ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!