বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

৭ মাসের অন্ত:সত্তা কিশোরীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ইয়াবা ব্যবসায়ী’র পুত্র ধর্ষক আব্দুল্লাহ ও সমাজপতিরা |বাংলাদেশ দিগন্ত

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪০৯ বার পঠিত

টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়াপাড়া বটতলী গ্রামে ৭ মাসের অন্ত:সত্তা এক কিশোরীকে সামাজিক মান মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করতে নানা টালবাহানা করে যাচ্ছে অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল্লাহ, তার ইয়াবা ব্যবসায়ী পিতা হাসান আলী এবং সমাজের অপরাপর দুর্নীতিবাজ মুরুব্বিরা।

জানা যায়, কিশোরীকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে এলাকার হাসান আলীর পুত্র আব্দুল্লাহ (২২) প্রকাশ সোনা মিয়া দীর্ঘ বছর ধরে শারীরিক মেলা মেশা করে আসছে। এর ফলে ৭ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে মেয়েটি। ভুক্তভোগী মেয়েটি জানায়, হাসান আলীর পুত্রের সাথে এক বছর আগে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। তখন সে ধর্মীয় গ্রন্থ ছোঁয়ে শপথ করে তাকে শারীরিক সম্পর্কে সামাজিক স্বীকৃতির আশ্বাস দেয়। এই প্রলোভনের ভিত্তিতে তারা উভয়ে বিভিন্ন সময়-অসময়ে শারীরিক মেলা মেশা করেছে। এরই প্রেক্ষিতে মেয়েটি এখন ৭মাসের গর্ভবতী হয়ে আব্দুল্লাহকে বিয়ের প্রস্তাব করে। কিন্তু আব্দুল্লাহ মেয়েটির সাথে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি সামাজিক স্বীকৃতির দিকে না গিয়ে উল্টো অস্বীকার করতে শুরু করে এবং গর্ভ নষ্ট করার জন্য ওষুধ এনে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী মানিক জানান, আব্দুল্লাহ একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীর ছেলে। তার পিতা হাসান আলী ইয়াবার টাকায় ধনবান হওয়ায় বিপুল টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিজের পক্ষে নিয়েছে। যার কারণে গর্ভবতী মেয়েটি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে মেয়েটির পরিবারের এমন তৎপরতার কথা জানতে পেরে ছেলের পরিবারও নানা ভাবে মেয়ের পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহর পিতা হাসান আলীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়ের পরিবার ইয়াবা ব্যবসায়ী এজন্য এই মেয়েটাকে তিনি সহজে মেনে নিতে চাইছেন না। তবে ডাক্তারি পরীক্ষায় যদি গর্ভের সন্তানটি তার ছেলের ঔরষজাত বলে প্রমাণিত হয় তাহলে ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিবে। এখানে উল্লেখ্য, মেয়েটির বাবা ইয়াবা পাচারের দায়ে একাধিকবার বিজিবি ও পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলো। সর্বশেষ ২হাজার ইয়াবা পাচারের ঘটনায় মেয়েটির পিতা বিজিবির হাতে আটক হয়ে এখনও কারাগারে আছে। এবিষয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বলছে- জব্দকৃত ইয়াবাগুলো হাছান আলীরই ছিলো। সে ইয়াবা ডন হিসেবে অনেক পাচারকারী হাতে রেখেছে।

মেয়ের পরিবারের অভিযোগ- স্থানীয় শালিসকারীগণ বিচারের নামে তামাশা করছে। এখন আবার প্রতি পক্ষে ২০ হাজার করে উভয় পক্ষকে ৪০ হাজার টাকা বিচারের জন্য জমা দিতে বলেছে। ওই টাকা দিয়ে নাকি ছেলের শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পরবর্তী আরও ৭দিন সময় নিয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় সমাজপতি রশিদ নামে একজন। এবিষয়ে রশিদের সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে- তিনি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে আগামী ৭দিন পর সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে মন্তব্য করেন। বিষয়টিকে সমাজপতিদের কালক্ষেপন হিসেবেই দেখছে স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার আব্দুল গফ্ফারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে যদি সমাধান না হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs
error: Content is protected !!