ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে খাগাতুয়া গ্রামে আবারো দুজনকে কুপিয়ে নির্মম ভাবে গুরুতর আহত!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

 

হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর প্রতিনিধি।
নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামে আলোচিত মাসুদ হত্যার পর থেকেই বেশ কয়েকমাস পলাতক ছিল আসামি পক্ষের লোকজন। এরই মধ্যে আসামিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট সহ ব্যাপক হয়রানি হওয়ার অভিযোগ উঠে মামলার বাদী পক্ষের উপর। যার পরিপ্রেক্ষিতে নবীনগর থানা পুলিশ লুটপাটের বেশ কিছু মালামাল অভিযান চালিয়ে উদ্ধারও করেছেন তখন।

এখনো এই মামলার বেশ কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছে,অনেকেই জামিনে আছেন। তবুও থেমে নেই সংহিতার খবর। অতিসম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে আবারো পলাতক আসামি সফিক এর সন্ধানে পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায় নিহত মাসুদ হত্যা মামলার বাদী পক্ষের লোকজন।

সে সময় তারা মাসুদ হত্যার অন্যতম আসামি সফিক এর ভাই হওয়ার কারণে রফিক নামের এক মাইক্রো গাড়ি চালককে বেদড় পিটিয়ে হাতগুলো ভেঙ্গে দেয়,উল্টো চিকিৎসা নেওয়ার আগেই দলীয় প্রভাব দেখিয়ে পুলিশের হাতে আটক করিয়ে দেয়,পরে নবীনগর থানা পুলিশ রফিক এর নামে কোন মামলা না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতে ছেড়ে দেন।

সোমবার ১৫ জানুয়ারি বিকালে পুনরায় এই মাসুদ গং সফিক এর আরেক ভাই রুবেল ও তার চাচা কে দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিছনে বাহুবলী তীর বসিয়ে দিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে যায়,স্থানীয়রা উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে,সফিক গ্রামে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করার অভিযোগ থাকলেও তার দুই ভাই রুবেল ও রফিক এর কি অপরাধ ছিলো ? যদিও রুবেল এর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী একটি মামলা হয়েছে।
তারা গ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করতে না পারলে,মাসুদ গং দের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মাসুদ হত্যার পর লুটপাট বাড়িঘর ভাঙচুর, পুকুরের মাছ ছুরি ডাকাতি অপহরণ ও নারী নির্যাতন সহ অসংখ্য অভিযোগ সহ কয়েকটি মামলা হয়েছে তারপরও ওরা কি করে গ্রামে থেকে এসব জঘন্য অপরাধ করে চলেছে তবুও কেন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ ?
যদিও নবীনগর থানা পুলিশ পূর্বে মাসুদ গংদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিজ্ঞ আদালতকে অবগত করেছিলেন।
অদৃশ্য কারণে তারা এখনো বাহিরে থেকে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

তবে মাসুদ হত্যা মামলার বাদী ইব্রাহিম মুঠোফোনে বলেন, আমরা তাদেরকে মারিনি,ওরা গ্রামের উত্তরপাড়ায় দুজন মহিলাকে হুমকি দেয়,জোর করে টাকা ছিনিয়ে নেয় এই জন্য হয়তো ওরা তাদেরকে মারতে পারে। মাসুদ হত্যার পর গ্রামে লুটপাট ভাঙচুর সহ বিভিন্ন অত্যাচার কারা করেছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি রেগে গিয়ে এসব বিষয় পুলিশকে জিজ্ঞাসা করতে বলেন। তিনি লুটপাট,ভাঙচুর অপরহন ডাকাতি এমন কোন মামলা তাদের কারো বিরুদ্ধে নেই মর্মে এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন।
এইজন্যই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাছাড়া সফিক মাঝেমধ্যে গ্রামে রাতে ঢুকে বিভিন্ন অপকর্ম করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয়রা পুরো বিষয়টি নব নির্বাচিত এমপি ফয়জুর রহমান বাদলকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।

Facebook Comments Box

নবীনগরে খাগাতুয়া গ্রামে আবারো দুজনকে কুপিয়ে নির্মম ভাবে গুরুতর আহত!

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

 

হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর প্রতিনিধি।
নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামে আলোচিত মাসুদ হত্যার পর থেকেই বেশ কয়েকমাস পলাতক ছিল আসামি পক্ষের লোকজন। এরই মধ্যে আসামিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট সহ ব্যাপক হয়রানি হওয়ার অভিযোগ উঠে মামলার বাদী পক্ষের উপর। যার পরিপ্রেক্ষিতে নবীনগর থানা পুলিশ লুটপাটের বেশ কিছু মালামাল অভিযান চালিয়ে উদ্ধারও করেছেন তখন।

এখনো এই মামলার বেশ কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছে,অনেকেই জামিনে আছেন। তবুও থেমে নেই সংহিতার খবর। অতিসম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে আবারো পলাতক আসামি সফিক এর সন্ধানে পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায় নিহত মাসুদ হত্যা মামলার বাদী পক্ষের লোকজন।

সে সময় তারা মাসুদ হত্যার অন্যতম আসামি সফিক এর ভাই হওয়ার কারণে রফিক নামের এক মাইক্রো গাড়ি চালককে বেদড় পিটিয়ে হাতগুলো ভেঙ্গে দেয়,উল্টো চিকিৎসা নেওয়ার আগেই দলীয় প্রভাব দেখিয়ে পুলিশের হাতে আটক করিয়ে দেয়,পরে নবীনগর থানা পুলিশ রফিক এর নামে কোন মামলা না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতে ছেড়ে দেন।

সোমবার ১৫ জানুয়ারি বিকালে পুনরায় এই মাসুদ গং সফিক এর আরেক ভাই রুবেল ও তার চাচা কে দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিছনে বাহুবলী তীর বসিয়ে দিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে যায়,স্থানীয়রা উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে,সফিক গ্রামে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করার অভিযোগ থাকলেও তার দুই ভাই রুবেল ও রফিক এর কি অপরাধ ছিলো ? যদিও রুবেল এর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী একটি মামলা হয়েছে।
তারা গ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করতে না পারলে,মাসুদ গং দের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মাসুদ হত্যার পর লুটপাট বাড়িঘর ভাঙচুর, পুকুরের মাছ ছুরি ডাকাতি অপহরণ ও নারী নির্যাতন সহ অসংখ্য অভিযোগ সহ কয়েকটি মামলা হয়েছে তারপরও ওরা কি করে গ্রামে থেকে এসব জঘন্য অপরাধ করে চলেছে তবুও কেন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ ?
যদিও নবীনগর থানা পুলিশ পূর্বে মাসুদ গংদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিজ্ঞ আদালতকে অবগত করেছিলেন।
অদৃশ্য কারণে তারা এখনো বাহিরে থেকে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

তবে মাসুদ হত্যা মামলার বাদী ইব্রাহিম মুঠোফোনে বলেন, আমরা তাদেরকে মারিনি,ওরা গ্রামের উত্তরপাড়ায় দুজন মহিলাকে হুমকি দেয়,জোর করে টাকা ছিনিয়ে নেয় এই জন্য হয়তো ওরা তাদেরকে মারতে পারে। মাসুদ হত্যার পর গ্রামে লুটপাট ভাঙচুর সহ বিভিন্ন অত্যাচার কারা করেছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি রেগে গিয়ে এসব বিষয় পুলিশকে জিজ্ঞাসা করতে বলেন। তিনি লুটপাট,ভাঙচুর অপরহন ডাকাতি এমন কোন মামলা তাদের কারো বিরুদ্ধে নেই মর্মে এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন।
এইজন্যই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাছাড়া সফিক মাঝেমধ্যে গ্রামে রাতে ঢুকে বিভিন্ন অপকর্ম করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয়রা পুরো বিষয়টি নব নির্বাচিত এমপি ফয়জুর রহমান বাদলকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।

Facebook Comments Box