ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গল্প: খোঁপায় ফুল,

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪ ২৩ বার পড়া হয়েছে

গল্প: খোঁপায় ফুল,
গল্পাকার:প্রিয়াংকা নিয়োগী,♥️
কোচবিহার,ভারত,
তারিখ:29.02.2024
______________________
অনেক প্রতীক্ষার পর লেপি এলো।সময় ছিলো চারটে,জায়গা গোল বাগানে।নিমন্ত্রিত হাফ ছাড়লো।
শেষমেষ এলো পাগলিটা।রাগ তাহলে একটু কমল।
লেপি এসেই বলল বেশিক্ষণ বসতে পারবেনা।
নিমন্ত্রিত: তুমি এখনো রেগে আছো?
লেপি:না।রেগে থাকলে আর আসতাম না।
নিমন্ত্রিত:তাহলে বেশি সময় কাটাতে পারবেনা যে বলছ।
লেপি:আমার নেমন্ত্রণ আছে। শর্মীর ভাইয়ের জন্মদিন।
শর্মী লেপার ছোটো বেলার বন্ধু।

নিমন্ত্রিতের ব্যাপারটা জানে শর্মী।

নিমন্ত্রিত:লেপি তোমার সাথে কথা না বললে ভালো লাগেনা।
আবার ঝগড়া না করলেও ভালো লাগেনা।
তুমি যে প্রিয়।
লেপি ভালো করেই জানে নিমন্ত্রিত খুব ভালোবাসে।
তাই হাজার ঝগড়ার পর দুজন দুজনের কাছে আসবে সেটাই স্বাভাবিক।

নিমন্ত্রিতের মনে পড়ে যায় অফিসের কিছু কাজ বাকি রয়ে যায়‌।লেপি কে বলে আজ আমারও কিছু কাজ আছে সোনা,তাই তাড়াতাড়ি উঠতে‌ হবে।এই বলে আধ ঘন্টা সময় কাটিয়ে দুজনে চলে যায়।

এদিকে লেপার বাড়ির থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। নিমন্ত্রিত বিষয়টা বাড়িতে জানালে উভয়ের বাড়ির থেকে যোগাযোগ করা হয় তাদের নতুন জীবনে এগিয়ে দেওয়ার জন্য।

একদিন লেপি ও শর্মী বিকেলে ঘুরতে বেড়োয়। দুজনেই ব্যাস্ত লেপির বিয়ে নিয়ে।শর্মী লেপিকে
বলে তুই খুব ভাগ্যবতী,এতো ভালো বর পাচ্ছিস।ঠাকুরকে ডাকবি আমারও যেন এমন একটি বর হয় যাতে আমায় খুব ভালো বাসে। আর তোর বিয়েতে কিন্তু জমিয়ে আনন্দ করব। মেহেন্দিতে কিন্তু প্রত্যেকেই নীল রঙের বেনারশী পড়ব।কতরকম প্ল্যান ই যে চলছে তাদের মধ্যে। বিয়ের জন্য ষাট শতাংশ কাজই শেষ হয়ে গেছে।ভবন ভাড়াও হয়ে গেছে।আর মাত্র পঁচিশ দিন বাকি। বাড়িতে ফেরার পরপরই নিমন্ত্রিত ফোন করে লেপিকে।দুজনের আবেগ যেন বাড়ছে এবং উচ্ছলিত মনোভাবে আপ্লুত দুজনে।কতই না ভাগ্য ভালো হলে এমন জুটি মেলে।

পরের দিন চা খাওয়ার পরই লেপির পেট ব্যাথা শুরু হয়। একটু একটু করে পেট ব্যাথা বাড়ে।অসয্য যন্ত্রণা গ্রাস করে লেপিকে। এরপর লেপির বাবা দাদা নার্সিং হোমে নিয়ে যায়‌।সেখানে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখা যায় লেপির এপেন্ডিক্স হয়েছে।এপেন্ডিক্স ফাটার আগেই অপরেশন করতে হবে।হাতে সময় খুবই কম।

লেপির বাড়িতে বাবা দাদা ছাড়াও মা আর বৌদি আছেন।লেপির দাদা বাড়িতে ফোন করলে ফোন মা ধরেন। শুনেই কান্না শুরু হয়ে‌ যায়।লেপির বৌদি নিমন্ত্রিতকে তড়িঘড়ি ফোন করেন।নিমন্ত্রিত তার বাড়িতে
মা বাবাকে জানিয়েই ছুট দেয় নার্সিং হোমে। দুপুর দুটোয় অপারেশন।

সবাই ঈশ্বরকে ডাকছে যাতে সব ঠিকঠাক হয়।
দু ঘন্টা লাগল অপারেশন করে বের করতে।লেপির
জ্ঞান ফিরতে আরও দুঘন্টা লাগবে।ঠিক দুঘন্টা গড়ার দিকে লেপির ‌জ্ঞান আস্তে থাকে। সিস্টারের মুখে সেকথা শুনে সবাই খুশি হয়।পরিপূর্ণ জ্ঞান ফিরলে নিমন্ত্রিত সহ লেপির বাড়ির সবাই দেখতে যায়।লেপির দাদা জানতে চায় কেমন লাগছে?লেপিকে বলে‌ সব ঠিক হয়ে যাবে।
এখন ঘুমাও বলে‌ সবাই বেড়িয়ে যায়।

রাত আটটায় আবার সবাই আসে দেখতে।
নিমন্ত্রিত কিন্তু ততক্ষন উপস্থিত ছিলেন ।সবাই আসার পর নিমন্ত্রিত বাড়ি ফেরে।পরের দিন লেপির বাড়ীর লোক সকাল আটটায় নার্সিংহোমে যায় লেপিকে দেখতে।সব ঠিক ছিলো। কিন্তু দুপুর থেকে লেপির পেট ব্যাথা আবার বাড়ে।ক্রমে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।আর সইতে পারছেনা। বাড়ির লোক লেপির এই অবস্থা দেখে
ভগবানকে ডাকতে থাকে।লেপির দাদা বীর ডাক্তারকে ডাকতে যায়। কিন্তু ঐ সময় ডাক্তার
অন্য অপারেশনে ছিলেন।তাই সেই ডাক্তারের জায়গায়
অন্য ডাক্তার এসে ব্যাথা থামার জন্য একটি ইন্জেকশন
করেন। কিন্তু কোনো ভাবেই ব্যাথা থামছেনা।

 

এই সময় লেপিকে দেখতে শর্মী আসে।সবাইকে বাইরে যেতে বলে শুধুই শর্মীকে থাকতে বলে লেপি।তার শর্মীর সাথে কথা আছে বলে সবাইকে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলে।সবাই রুম থেকে বেরিয়ে গেলে
শর্মীর সাথে আধা ঘন্টা ধরে কথা বলে সেই কাতরানো অবস্থায়।

শর্মী দরজা খুলে দেয় আধঘন্টা পর।সবাই ঢুকে কৌতুহল নিয়ে।দেখে লেপি কাতরাচ্ছে।

অবশেষে বিয়ের দিন এলো।হলুদ বেনারশী তে কনেকে ভীষণ মানিয়েছে।এদিকে নিমন্ত্রিতও কিন্তু হলুদ পাঞ্জাবী পড়েছে।কনের আশীর্বাদ দুপুরেই হয়েছে।
লেপির দাদা ব্যাক্তিগতভাবে হিরার আংটি দিয়েছে নিমন্ত্রিতকে।পাত্রীর বাড়ির লোকজনরা বেড়োলো বরকে আশীর্বাদ করতে।চারদিকে সানাই বাজছে,রয়েল সাজে ভরপুর।পাত্রীকে বের করল মালা বদলের জন্য।কনে পান পাতা দিয়ে মুখ ঢাকা।সাতপাক‌ বরের চারদিকে ঘুরিয়ে এবার পানপাতা সরাচ্ছে কনে।লেপিকে হয়তো খুব সুন্দর লাগছে ভেবেই মনে পড়লো নিমন্ত্রিতের এতো তার লেপি নয়।লেপির দিয়ে জাওয়া শর্মী।

আসলে শর্মীকে ডেকে লেপি এটাই বলেছিলো
– তার সময় শেষ হয়ে আসছে।তাই নিমন্ত্রিতর দায়িত্বটা তাকে দিতে চায়।লেপি বলল আমি বুঝি তুই নিমন্ত্রিতর আমার প্রতি যত্নশীল বিষয়গুলো ভীষণভাবে পছন্দ করিস।তাই আমার মতো করে কেউ যদি নিমন্ত্রিতকে বুঝতে পারে সেটা তুই পারবি।আর নিমন্ত্রিতকে নিয়ে চিন্তা করিসনা,ও ঠিক রাজী হয়ে যাবে।বিয়ের সমস্ত কিছুই রেডি।তোদের বাড়ির থেকে আর কিছু করতে হবেনা।তোর এবার বিয়ে করার পালা।

সাথে নিমন্ত্রিতকেও ম্যাসেজ করে দিয়েছিলো যদি কোনোদিন এমন দিন আসে তাকে লেপিকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে বাঁচতে হবে তাহলে সে যেন শর্মীকে বেছে নেয়।আসলে এমন ইয়ার্কি লেপি আগেও করত তাই সে ভেবেছিলো সেগুলি ঠাট্টা‌ করছে যাতে ভয় পেয়ে যায় নিমন্ত্রিত।নিমন্ত্রিত কিছুটা রেগে গিয়েছিল এইরকম অবস্থায় কেউ এগুলি লেখে নাকি ।কিন্তু সেদিন সেটা
সত্যই ছিলো। ইয়ার্কি সেদিন সত্য হয়েছিলো।
লেপি সেদিন অসয্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলো।

লেপি তার মাকেও বলে দিয়ে গিয়েছিলো
যাতে শর্মীর সাথে নিমন্ত্রিতর সেই তারিখেই বিয়ে দেয়।
আর লেপির শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী আজ শর্মী ও‌ নিমন্ত্রিত বিয়ের পিঁড়িতে।তবে বিয়ের সমস্ত খরচটাই লেপির বাড়ির থেকে করা।সাজো বিয়ের পর ফটো শুটের জন্য
নব দম্পতিকে একসাথে পোজ দিতে বলা‌ হয়।
ফটোগ্রাফার পোজ দেখিয়ে দিচ্ছিলেন ।
বুকে পাথর নিয়ে সব পোজ দিচ্ছিলেন নিমন্ত্রিত।
এবার বলা হোলো নিমন্ত্রিতকে শর্মীর খোঁপায় ফুল গুঁজতে।নিমন্ত্রিত হাতে ফুল নিয়ে ভাবছে আজ লেপির খোঁপায় ফুল গুজত।জীবন তাকে এমন জায়গায় দাঁড় করাবে ভাবতেও পারেনি।এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শর্মীর
খোঁপায় ফুল গোঁজে।

লেপির মা অবশ্য একটু সুযোগ পেয়েছেন নিজের মেয়ের কথা মনে‌ করে একটু চোখের জল ফেলার।শর্মী পেয়েছে নিজের পছন্দের মানুষকে কপালের জোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে।যেখানে গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতস্তত বিষয়টি জড়িয়ে।একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে বলেছিলো লেপি।সেই লাইনকে ধরে আজ নিমন্ত্রিতের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে শর্মী,নিমন্ত্রিতকে আঁকড়ে ধরা এবং নিজের করার জন্য নিজেকে তৈরী করা।

ফুল সজ্জার রাতে শর্মী বিছানায় এবং নিমন্ত্রিত সোফায় শয়।নিমন্ত্রিত শুধুই লেপিকে মনে করছে।
আর শর্মী ভাবছে পরিস্থিতির শিকার না হলে আজকের এই বিশেষ রাতটি বিশেষ হয়েই থাকত।

এভাবে ছমাস কেটে যায়।শর্মী মনে করল লেপি বলেছিলো মেনে নিতে দেরি করলে তুই আবেগের আদর দিয়ে কাছে টেনে নিবি।সেই কথা মতো শর্মী বলে নিমন্ত্রিতকে এভাবে আর কতদিন? আমারোতো ইচ্ছে করে ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা পেতে।

নিমন্ত্রিত: তুমি আমায় ভালবাসো শর্মী?

শর্মী:লেপির প্রতি আপনার কেয়ারিং ব্যাপারটা আমায় মুগ্ধ করেছিলো।সেদিক থেকে আপনাকে ভালো লাগত।
একটা সময় লেপিও বুঝতে পেরেছিলো।আর এখন আপনাকে আমি ভালোবাসি।

আমাদের জীবনে এটাই ছিলো হওয়ার ,তাই হয়েছে।
আমারও ইচ্ছে করে স্বামীর ভালবাসা পেতে,মা হতে।
তৎক্ষণাৎ নিমন্ত্রিত শর্মীকে কাছে টেনে নেয়।শর্মী নিমন্ত্রিতর বুকে মাথা রাখে। নিমন্ত্রিত ভাবল আজ লেপি থাকলেতো এমনটাই হোতো।আর লেপি যাকে দিয়ে গিয়েছে আমাকে তার পরিপূর্ণ যত্ন করার দায়িত্বটা আমার।এতে লেপি খুশি হবে।

এমন ভাবতে ভাবতে নিমন্ত্রিত কখন যেন শর্মীকে লেপি অনুভব করতে লাগল।আস্তে আস্তেই তারা প্রকৃত স্বামী-স্ত্রী হয়ে উঠল। একটু একটু করে একে অপরের প্রতি আগ্রহ জন্মাতে লাগল প্রকৃতই।

Facebook Comments Box

গল্প: খোঁপায় ফুল,

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

গল্প: খোঁপায় ফুল,
গল্পাকার:প্রিয়াংকা নিয়োগী,♥️
কোচবিহার,ভারত,
তারিখ:29.02.2024
______________________
অনেক প্রতীক্ষার পর লেপি এলো।সময় ছিলো চারটে,জায়গা গোল বাগানে।নিমন্ত্রিত হাফ ছাড়লো।
শেষমেষ এলো পাগলিটা।রাগ তাহলে একটু কমল।
লেপি এসেই বলল বেশিক্ষণ বসতে পারবেনা।
নিমন্ত্রিত: তুমি এখনো রেগে আছো?
লেপি:না।রেগে থাকলে আর আসতাম না।
নিমন্ত্রিত:তাহলে বেশি সময় কাটাতে পারবেনা যে বলছ।
লেপি:আমার নেমন্ত্রণ আছে। শর্মীর ভাইয়ের জন্মদিন।
শর্মী লেপার ছোটো বেলার বন্ধু।

নিমন্ত্রিতের ব্যাপারটা জানে শর্মী।

নিমন্ত্রিত:লেপি তোমার সাথে কথা না বললে ভালো লাগেনা।
আবার ঝগড়া না করলেও ভালো লাগেনা।
তুমি যে প্রিয়।
লেপি ভালো করেই জানে নিমন্ত্রিত খুব ভালোবাসে।
তাই হাজার ঝগড়ার পর দুজন দুজনের কাছে আসবে সেটাই স্বাভাবিক।

নিমন্ত্রিতের মনে পড়ে যায় অফিসের কিছু কাজ বাকি রয়ে যায়‌।লেপি কে বলে আজ আমারও কিছু কাজ আছে সোনা,তাই তাড়াতাড়ি উঠতে‌ হবে।এই বলে আধ ঘন্টা সময় কাটিয়ে দুজনে চলে যায়।

এদিকে লেপার বাড়ির থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। নিমন্ত্রিত বিষয়টা বাড়িতে জানালে উভয়ের বাড়ির থেকে যোগাযোগ করা হয় তাদের নতুন জীবনে এগিয়ে দেওয়ার জন্য।

একদিন লেপি ও শর্মী বিকেলে ঘুরতে বেড়োয়। দুজনেই ব্যাস্ত লেপির বিয়ে নিয়ে।শর্মী লেপিকে
বলে তুই খুব ভাগ্যবতী,এতো ভালো বর পাচ্ছিস।ঠাকুরকে ডাকবি আমারও যেন এমন একটি বর হয় যাতে আমায় খুব ভালো বাসে। আর তোর বিয়েতে কিন্তু জমিয়ে আনন্দ করব। মেহেন্দিতে কিন্তু প্রত্যেকেই নীল রঙের বেনারশী পড়ব।কতরকম প্ল্যান ই যে চলছে তাদের মধ্যে। বিয়ের জন্য ষাট শতাংশ কাজই শেষ হয়ে গেছে।ভবন ভাড়াও হয়ে গেছে।আর মাত্র পঁচিশ দিন বাকি। বাড়িতে ফেরার পরপরই নিমন্ত্রিত ফোন করে লেপিকে।দুজনের আবেগ যেন বাড়ছে এবং উচ্ছলিত মনোভাবে আপ্লুত দুজনে।কতই না ভাগ্য ভালো হলে এমন জুটি মেলে।

পরের দিন চা খাওয়ার পরই লেপির পেট ব্যাথা শুরু হয়। একটু একটু করে পেট ব্যাথা বাড়ে।অসয্য যন্ত্রণা গ্রাস করে লেপিকে। এরপর লেপির বাবা দাদা নার্সিং হোমে নিয়ে যায়‌।সেখানে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখা যায় লেপির এপেন্ডিক্স হয়েছে।এপেন্ডিক্স ফাটার আগেই অপরেশন করতে হবে।হাতে সময় খুবই কম।

লেপির বাড়িতে বাবা দাদা ছাড়াও মা আর বৌদি আছেন।লেপির দাদা বাড়িতে ফোন করলে ফোন মা ধরেন। শুনেই কান্না শুরু হয়ে‌ যায়।লেপির বৌদি নিমন্ত্রিতকে তড়িঘড়ি ফোন করেন।নিমন্ত্রিত তার বাড়িতে
মা বাবাকে জানিয়েই ছুট দেয় নার্সিং হোমে। দুপুর দুটোয় অপারেশন।

সবাই ঈশ্বরকে ডাকছে যাতে সব ঠিকঠাক হয়।
দু ঘন্টা লাগল অপারেশন করে বের করতে।লেপির
জ্ঞান ফিরতে আরও দুঘন্টা লাগবে।ঠিক দুঘন্টা গড়ার দিকে লেপির ‌জ্ঞান আস্তে থাকে। সিস্টারের মুখে সেকথা শুনে সবাই খুশি হয়।পরিপূর্ণ জ্ঞান ফিরলে নিমন্ত্রিত সহ লেপির বাড়ির সবাই দেখতে যায়।লেপির দাদা জানতে চায় কেমন লাগছে?লেপিকে বলে‌ সব ঠিক হয়ে যাবে।
এখন ঘুমাও বলে‌ সবাই বেড়িয়ে যায়।

রাত আটটায় আবার সবাই আসে দেখতে।
নিমন্ত্রিত কিন্তু ততক্ষন উপস্থিত ছিলেন ।সবাই আসার পর নিমন্ত্রিত বাড়ি ফেরে।পরের দিন লেপির বাড়ীর লোক সকাল আটটায় নার্সিংহোমে যায় লেপিকে দেখতে।সব ঠিক ছিলো। কিন্তু দুপুর থেকে লেপির পেট ব্যাথা আবার বাড়ে।ক্রমে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।আর সইতে পারছেনা। বাড়ির লোক লেপির এই অবস্থা দেখে
ভগবানকে ডাকতে থাকে।লেপির দাদা বীর ডাক্তারকে ডাকতে যায়। কিন্তু ঐ সময় ডাক্তার
অন্য অপারেশনে ছিলেন।তাই সেই ডাক্তারের জায়গায়
অন্য ডাক্তার এসে ব্যাথা থামার জন্য একটি ইন্জেকশন
করেন। কিন্তু কোনো ভাবেই ব্যাথা থামছেনা।

 

এই সময় লেপিকে দেখতে শর্মী আসে।সবাইকে বাইরে যেতে বলে শুধুই শর্মীকে থাকতে বলে লেপি।তার শর্মীর সাথে কথা আছে বলে সবাইকে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলে।সবাই রুম থেকে বেরিয়ে গেলে
শর্মীর সাথে আধা ঘন্টা ধরে কথা বলে সেই কাতরানো অবস্থায়।

শর্মী দরজা খুলে দেয় আধঘন্টা পর।সবাই ঢুকে কৌতুহল নিয়ে।দেখে লেপি কাতরাচ্ছে।

অবশেষে বিয়ের দিন এলো।হলুদ বেনারশী তে কনেকে ভীষণ মানিয়েছে।এদিকে নিমন্ত্রিতও কিন্তু হলুদ পাঞ্জাবী পড়েছে।কনের আশীর্বাদ দুপুরেই হয়েছে।
লেপির দাদা ব্যাক্তিগতভাবে হিরার আংটি দিয়েছে নিমন্ত্রিতকে।পাত্রীর বাড়ির লোকজনরা বেড়োলো বরকে আশীর্বাদ করতে।চারদিকে সানাই বাজছে,রয়েল সাজে ভরপুর।পাত্রীকে বের করল মালা বদলের জন্য।কনে পান পাতা দিয়ে মুখ ঢাকা।সাতপাক‌ বরের চারদিকে ঘুরিয়ে এবার পানপাতা সরাচ্ছে কনে।লেপিকে হয়তো খুব সুন্দর লাগছে ভেবেই মনে পড়লো নিমন্ত্রিতের এতো তার লেপি নয়।লেপির দিয়ে জাওয়া শর্মী।

আসলে শর্মীকে ডেকে লেপি এটাই বলেছিলো
– তার সময় শেষ হয়ে আসছে।তাই নিমন্ত্রিতর দায়িত্বটা তাকে দিতে চায়।লেপি বলল আমি বুঝি তুই নিমন্ত্রিতর আমার প্রতি যত্নশীল বিষয়গুলো ভীষণভাবে পছন্দ করিস।তাই আমার মতো করে কেউ যদি নিমন্ত্রিতকে বুঝতে পারে সেটা তুই পারবি।আর নিমন্ত্রিতকে নিয়ে চিন্তা করিসনা,ও ঠিক রাজী হয়ে যাবে।বিয়ের সমস্ত কিছুই রেডি।তোদের বাড়ির থেকে আর কিছু করতে হবেনা।তোর এবার বিয়ে করার পালা।

সাথে নিমন্ত্রিতকেও ম্যাসেজ করে দিয়েছিলো যদি কোনোদিন এমন দিন আসে তাকে লেপিকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে বাঁচতে হবে তাহলে সে যেন শর্মীকে বেছে নেয়।আসলে এমন ইয়ার্কি লেপি আগেও করত তাই সে ভেবেছিলো সেগুলি ঠাট্টা‌ করছে যাতে ভয় পেয়ে যায় নিমন্ত্রিত।নিমন্ত্রিত কিছুটা রেগে গিয়েছিল এইরকম অবস্থায় কেউ এগুলি লেখে নাকি ।কিন্তু সেদিন সেটা
সত্যই ছিলো। ইয়ার্কি সেদিন সত্য হয়েছিলো।
লেপি সেদিন অসয্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলো।

লেপি তার মাকেও বলে দিয়ে গিয়েছিলো
যাতে শর্মীর সাথে নিমন্ত্রিতর সেই তারিখেই বিয়ে দেয়।
আর লেপির শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী আজ শর্মী ও‌ নিমন্ত্রিত বিয়ের পিঁড়িতে।তবে বিয়ের সমস্ত খরচটাই লেপির বাড়ির থেকে করা।সাজো বিয়ের পর ফটো শুটের জন্য
নব দম্পতিকে একসাথে পোজ দিতে বলা‌ হয়।
ফটোগ্রাফার পোজ দেখিয়ে দিচ্ছিলেন ।
বুকে পাথর নিয়ে সব পোজ দিচ্ছিলেন নিমন্ত্রিত।
এবার বলা হোলো নিমন্ত্রিতকে শর্মীর খোঁপায় ফুল গুঁজতে।নিমন্ত্রিত হাতে ফুল নিয়ে ভাবছে আজ লেপির খোঁপায় ফুল গুজত।জীবন তাকে এমন জায়গায় দাঁড় করাবে ভাবতেও পারেনি।এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শর্মীর
খোঁপায় ফুল গোঁজে।

লেপির মা অবশ্য একটু সুযোগ পেয়েছেন নিজের মেয়ের কথা মনে‌ করে একটু চোখের জল ফেলার।শর্মী পেয়েছে নিজের পছন্দের মানুষকে কপালের জোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে।যেখানে গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতস্তত বিষয়টি জড়িয়ে।একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে বলেছিলো লেপি।সেই লাইনকে ধরে আজ নিমন্ত্রিতের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে শর্মী,নিমন্ত্রিতকে আঁকড়ে ধরা এবং নিজের করার জন্য নিজেকে তৈরী করা।

ফুল সজ্জার রাতে শর্মী বিছানায় এবং নিমন্ত্রিত সোফায় শয়।নিমন্ত্রিত শুধুই লেপিকে মনে করছে।
আর শর্মী ভাবছে পরিস্থিতির শিকার না হলে আজকের এই বিশেষ রাতটি বিশেষ হয়েই থাকত।

এভাবে ছমাস কেটে যায়।শর্মী মনে করল লেপি বলেছিলো মেনে নিতে দেরি করলে তুই আবেগের আদর দিয়ে কাছে টেনে নিবি।সেই কথা মতো শর্মী বলে নিমন্ত্রিতকে এভাবে আর কতদিন? আমারোতো ইচ্ছে করে ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা পেতে।

নিমন্ত্রিত: তুমি আমায় ভালবাসো শর্মী?

শর্মী:লেপির প্রতি আপনার কেয়ারিং ব্যাপারটা আমায় মুগ্ধ করেছিলো।সেদিক থেকে আপনাকে ভালো লাগত।
একটা সময় লেপিও বুঝতে পেরেছিলো।আর এখন আপনাকে আমি ভালোবাসি।

আমাদের জীবনে এটাই ছিলো হওয়ার ,তাই হয়েছে।
আমারও ইচ্ছে করে স্বামীর ভালবাসা পেতে,মা হতে।
তৎক্ষণাৎ নিমন্ত্রিত শর্মীকে কাছে টেনে নেয়।শর্মী নিমন্ত্রিতর বুকে মাথা রাখে। নিমন্ত্রিত ভাবল আজ লেপি থাকলেতো এমনটাই হোতো।আর লেপি যাকে দিয়ে গিয়েছে আমাকে তার পরিপূর্ণ যত্ন করার দায়িত্বটা আমার।এতে লেপি খুশি হবে।

এমন ভাবতে ভাবতে নিমন্ত্রিত কখন যেন শর্মীকে লেপি অনুভব করতে লাগল।আস্তে আস্তেই তারা প্রকৃত স্বামী-স্ত্রী হয়ে উঠল। একটু একটু করে একে অপরের প্রতি আগ্রহ জন্মাতে লাগল প্রকৃতই।

Facebook Comments Box