ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বর্তমান নারীদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভূমিকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

 

প্রিয়াংকা নিয়োগী, কোচবিহার ভারত।

নারীদের জীবন নিয়ে – সূচনা লগ্ন থেকেই
একই কথা এবং একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়,তা হোলো
আবেগের দৃষ্টিতে। নারীরা আগে কন্যা,স্ত্রী,মা,দিদি ইত্যাদি,পরে মানুষ।আজও প্রযুক্তিবিদ্যার যুগে নারীদের মানুষ হিসেবে দেখা হয় না। নারীদের জন্য আগেও যে নিয়ম ছিলো,এখনও সে নিয়ম প্রযোজ্য।নারীদের লড়াই বিভিন্নভাবে ছিলো তা ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকে এবং এখনও আছে ও চলবে।

সামাজিক জীবন :নারীরা মানুষ এটা আগে ভাবতে হবে ।এই জগত সংসারের জন্য নারীরাও সমভাবে সমান।যারা এই বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছিলেন তারা কিন্তু মেনে নিয়েছিলেন। তাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির –
কল্যানকর অর্ধেক তার করিয়াছি
অর্ধেক তার নারী,
অর্ধেক তার নর।

লেনিন বলেছেন -নারীর সাহায্যে তার চিন্তাশীলতা ও সচেতনতায় নব সমাজের নির্মাণ সুদৃঢ় হতে পারে।

‌‌
প্লেটো বলেছেন-নারীর কাছ থেকে পুরুষের মত কাজ আশা করলে তাকে অবশ্যই সমান শিক্ষা দিতে হবে।

এলইয়ান রুজভেল্ট বলেছেন -নারী হচ্ছে টি ব্যাগের মত । গরম জলে দেওয়ার আগে তুমি বুঝতে পারবে না সে কতটা শক্তিশালী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ বলেছেন নারী কবিতায়-
আমিতো দেখি জগৎ চলে নারীর পিছু পিছু।

মহাকাশ আমার‌ পদতলে শায়িত চিরকাল,
আমি ছাড়া এ জগৎ সংসার সবই হবে অচল।

উপরিউক্ত বাণীগুলো প্রমাণ করে নারীও শক্তিশালী,নারীও মানুষ।এই জগত সংসার গড়ে ওঠার পেছনে নারী এবং নর উভয়ের ভূমিকাই সমান।তবে কেন নারীদের সিমপেথির নজরে দেখা হয়? কোন
জায়গায় ফাঁক রয়ে গেছে যে কারণে নারীদের আজও
এই দৃষ্টিভঙ্গির সম্মুখীন হতে হবে।

নারীরা তাদের
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ,ইন্স্ট্রগ্রাম, ইউটিউবের মাধ্যমে নিজেদের কাজকর্ম প্রদশর্তিত করছে।অর্থাৎ
প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত নারীদের জীবন একটু একটু করে পাল্টেছে।তবে কেবলই আত্মকেন্দ্রিক।নিজ প্রচারের জন্য এবং নিজ আলোকিত হওয়ার জন্য প্রতিটি মানুষ চেষ্টা করে সেটা স্বাভাবিক।তবে আজও নারীদের সিমপ্যাথির নজরে দেখা হয়।সেটার জন্য কয়জন নারী প্রতিবাদ করেছেন।
নারীদের মানুষ হিসেবে দেখতে হবে সেই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস বা চিৎকার নেই বললেই চলে।আজ যদিও নারীরা আনেকটাই স্বাধীন, তবুও মুল জায়গা একই
রয়ে গেছে।বিশেষত: ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানসহ আরও অনেক দেশেই একই
নিয়ম রয়ে গেছে।

ব্রিটিশ ভারতে কাদম্বিনী গাঙ্গুলী প্রথম দুজন নারী স্নাতকের একজন। কাদম্বিনী গাঙ্গুলী একরোখা মনোভাব ছিলেন আমাকে এগিয়ে যেতে হবে, লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর জীবনকাহিনী সকল নারীদের পাঠ করা উচিত।তাতে নারীরা মনোযোগী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।এই কাদম্বিনী গাঙ্গুলী শুধু নিজেই এগিয়ে যআয়নই,তার কারণেই নারী শিক্ষার প্রসার হয়েছিলো।

নারী নিয়ে লড়াই করা নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোলো – পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই ,
বাংলাদেশের বেগম রোকেয়া ইত্যাদি।

আমরা নারীরা পারি ঐক্যবদ্ধ হয়ে “আমরা আগে‌ মানুষ” এটি বাস্তবায়িত করতে।নারীরা লেখা পড়া করে অর্থ উপার্জন করলেও আজকের সময়েও একই অবস্থা।

আজও নারীরা রাস্তাঘাটে পুরুষের ভয়ে থাকে।
বেসম্মান না হতে হয় তার ভয় মনের একপাশে থাকে।
অবশ্য এদোষ শুধু পুরুষদের দিলে চলবেনা।
এখানে নারীরা বেশি দোষী ।একজন পুত্র সন্তানকে
কখনোই শেখানো হয়না নারীদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করার জন্য।এবিষয়ে সাহিত্যিক প্রিয়াংকা নিয়োগী বলেছেন-
সমাজে ধর্ষণ আটকাতে গেলে পুত্র সন্তানের জননীর আগে ভূমিকা রাখতে হবে।পুত্রসন্তান পাঁচ বছর হওয়ার সাথে সাথে তাকে শেখাতে হবে নারীদের
শ্রদ্ধা ও সম্মান করার জন্য।আর এই দায়িত্বটা আগে মায়ের।

বর্তমানে দাঁড়িয়েও নারীরা ধর্ষিত,টোনটিং হবার ভয়ে থাকে। আধুনিকতার ছোঁয়া নারীদের জীবনে থাকলেও, নারীদের সামাজিক জীবনে ঘুরে ফিরে সেই পুরুষতান্ত্রিক দাপটের বিষয়গুলি আজও বিরাজমান।আজও নারীদের বিয়ের‌ সময় পন দেওয়া হয়।বিভিন্ন দিক বিচার করলে এটা আবারও প্রমাণ হয়
যে নারীদের আগে মানুষ ভাবা হয়না,প্রথমেই তাদের ভাবা হয় কন্যা সন্তান হিসেবে।ব্যারিয়ার্স ভাঙতে হবে
নারীদের। নারীদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অত্যন্ত জরুরী।

আজ বেশিরভাগ নারীই সুশিক্ষিত, চাকুরীজীবী,ব্যাবসায়ী,নৃত্যশিল্পী,সঙ্গীত শিল্পী,বিনোদন জগতে সাড়া ফেলেছে।তবে সেটা নারীদের নিজস্ব জেদ ও প্রয়াস এবং নারীদের এই যাত্রার পেছনে রয়েছে দেবরুপ পুরুষদের প্রচেষ্টা।

নারীদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : সবকিছুর দিক থেকে নারীরা এগোতে থাকলেও একটি বিষয় নিয়ে নারীরা আজও ভাবেনি এবং আওয়াজ তোলেনি।তাই Women Empowerment নারীদের ক্ষেত্রে জাগরিত হয়নি বললেই চলে।

আজও নারীরা নায়িকা,নৃত্যশিল্পী ও নিজের অর্থ উপার্জন নিয়ে যতটা ভাবেন ততটা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে ভাবেননা।প্রধানমন্ত্রী,মুখ্যমন্ত্রী,
রাষ্ট্রপতি,অঞ্চলের প্রধান হবো এবং সমাজ ও দেশের বিষয়ে হাল ধরব এসব নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা সার্বজনীনভাবে নারীদের জেগে ওঠেনি ।
তাইতো নারীরা আজ স্বাধীনভাবে চলার চেষ্টা করলেও
রাজনীতিতে নারীরা আজও পিছিয়ে রয়েছে।Women Empowerment জোরদার সেদিন হবে যেদিন সমস্ত নারী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদের আসনে পুরুষ ও নারীর জন্য সমান বরাদ্দ চাই বলে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য সরব হবে।কিন্তু তার জন্য চাই স্বপ্ন।রাজনীতি পরিকাঠামোর অস্থিরতায় বেশিরভাগ পরিবার থেকে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারে না।
আর এই করেই নারীরা রাজনীতিতে পিছিয়ে যাচ্ছে।
রাজনীতিক পরিমন্ডলের লড়াইয়ের জন্যই এই চিন্তাভাবনা কাজ করেনা।বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই
একই চিত্র।সেদিক থেকে বিচার করলে নারীরা রাজনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

এই নারী দিবসে সকল নারীদের বলতে চাই রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের জায়গা বুঝে নিতে।
সংসদে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে দাবী তুলতে।

কোনো কাজই ছোটো নয়।তাই সৎ ও আদর্শ পথে অর্থ উপার্জন করতে।মা,বাবা, জীবনসাথী সকলের পাশে থাকতে পারবে।প্রতিটি নারীর উচ্চ থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিতে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া উচিত । কখনোই নিজেকে কারো সাথে তুলনা করবে না।নিজের ইচ্ছেকে দেখো এবং শুধু ভালো কাজগুলোই করো।ভয় পেয়োনা নারী।ভয়কে করো জয়।
তবেই তোমার লক্ষ্যের হবে জয়।

সর্বোপরি মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে।
বাঁচার মতো করে বাচঁতে।আর পরিবারকে মমত্ব ও ভালোবাসা দিয়ে বেঁধে রাখতে।

Facebook Comments Box

বর্তমান নারীদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভূমিকা

আপডেট সময় : ১১:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪

 

প্রিয়াংকা নিয়োগী, কোচবিহার ভারত।

নারীদের জীবন নিয়ে – সূচনা লগ্ন থেকেই
একই কথা এবং একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়,তা হোলো
আবেগের দৃষ্টিতে। নারীরা আগে কন্যা,স্ত্রী,মা,দিদি ইত্যাদি,পরে মানুষ।আজও প্রযুক্তিবিদ্যার যুগে নারীদের মানুষ হিসেবে দেখা হয় না। নারীদের জন্য আগেও যে নিয়ম ছিলো,এখনও সে নিয়ম প্রযোজ্য।নারীদের লড়াই বিভিন্নভাবে ছিলো তা ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকে এবং এখনও আছে ও চলবে।

সামাজিক জীবন :নারীরা মানুষ এটা আগে ভাবতে হবে ।এই জগত সংসারের জন্য নারীরাও সমভাবে সমান।যারা এই বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছিলেন তারা কিন্তু মেনে নিয়েছিলেন। তাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির –
কল্যানকর অর্ধেক তার করিয়াছি
অর্ধেক তার নারী,
অর্ধেক তার নর।

লেনিন বলেছেন -নারীর সাহায্যে তার চিন্তাশীলতা ও সচেতনতায় নব সমাজের নির্মাণ সুদৃঢ় হতে পারে।

‌‌
প্লেটো বলেছেন-নারীর কাছ থেকে পুরুষের মত কাজ আশা করলে তাকে অবশ্যই সমান শিক্ষা দিতে হবে।

এলইয়ান রুজভেল্ট বলেছেন -নারী হচ্ছে টি ব্যাগের মত । গরম জলে দেওয়ার আগে তুমি বুঝতে পারবে না সে কতটা শক্তিশালী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ বলেছেন নারী কবিতায়-
আমিতো দেখি জগৎ চলে নারীর পিছু পিছু।

মহাকাশ আমার‌ পদতলে শায়িত চিরকাল,
আমি ছাড়া এ জগৎ সংসার সবই হবে অচল।

উপরিউক্ত বাণীগুলো প্রমাণ করে নারীও শক্তিশালী,নারীও মানুষ।এই জগত সংসার গড়ে ওঠার পেছনে নারী এবং নর উভয়ের ভূমিকাই সমান।তবে কেন নারীদের সিমপেথির নজরে দেখা হয়? কোন
জায়গায় ফাঁক রয়ে গেছে যে কারণে নারীদের আজও
এই দৃষ্টিভঙ্গির সম্মুখীন হতে হবে।

নারীরা তাদের
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ,ইন্স্ট্রগ্রাম, ইউটিউবের মাধ্যমে নিজেদের কাজকর্ম প্রদশর্তিত করছে।অর্থাৎ
প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত নারীদের জীবন একটু একটু করে পাল্টেছে।তবে কেবলই আত্মকেন্দ্রিক।নিজ প্রচারের জন্য এবং নিজ আলোকিত হওয়ার জন্য প্রতিটি মানুষ চেষ্টা করে সেটা স্বাভাবিক।তবে আজও নারীদের সিমপ্যাথির নজরে দেখা হয়।সেটার জন্য কয়জন নারী প্রতিবাদ করেছেন।
নারীদের মানুষ হিসেবে দেখতে হবে সেই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস বা চিৎকার নেই বললেই চলে।আজ যদিও নারীরা আনেকটাই স্বাধীন, তবুও মুল জায়গা একই
রয়ে গেছে।বিশেষত: ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানসহ আরও অনেক দেশেই একই
নিয়ম রয়ে গেছে।

ব্রিটিশ ভারতে কাদম্বিনী গাঙ্গুলী প্রথম দুজন নারী স্নাতকের একজন। কাদম্বিনী গাঙ্গুলী একরোখা মনোভাব ছিলেন আমাকে এগিয়ে যেতে হবে, লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর জীবনকাহিনী সকল নারীদের পাঠ করা উচিত।তাতে নারীরা মনোযোগী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।এই কাদম্বিনী গাঙ্গুলী শুধু নিজেই এগিয়ে যআয়নই,তার কারণেই নারী শিক্ষার প্রসার হয়েছিলো।

নারী নিয়ে লড়াই করা নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোলো – পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই ,
বাংলাদেশের বেগম রোকেয়া ইত্যাদি।

আমরা নারীরা পারি ঐক্যবদ্ধ হয়ে “আমরা আগে‌ মানুষ” এটি বাস্তবায়িত করতে।নারীরা লেখা পড়া করে অর্থ উপার্জন করলেও আজকের সময়েও একই অবস্থা।

আজও নারীরা রাস্তাঘাটে পুরুষের ভয়ে থাকে।
বেসম্মান না হতে হয় তার ভয় মনের একপাশে থাকে।
অবশ্য এদোষ শুধু পুরুষদের দিলে চলবেনা।
এখানে নারীরা বেশি দোষী ।একজন পুত্র সন্তানকে
কখনোই শেখানো হয়না নারীদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করার জন্য।এবিষয়ে সাহিত্যিক প্রিয়াংকা নিয়োগী বলেছেন-
সমাজে ধর্ষণ আটকাতে গেলে পুত্র সন্তানের জননীর আগে ভূমিকা রাখতে হবে।পুত্রসন্তান পাঁচ বছর হওয়ার সাথে সাথে তাকে শেখাতে হবে নারীদের
শ্রদ্ধা ও সম্মান করার জন্য।আর এই দায়িত্বটা আগে মায়ের।

বর্তমানে দাঁড়িয়েও নারীরা ধর্ষিত,টোনটিং হবার ভয়ে থাকে। আধুনিকতার ছোঁয়া নারীদের জীবনে থাকলেও, নারীদের সামাজিক জীবনে ঘুরে ফিরে সেই পুরুষতান্ত্রিক দাপটের বিষয়গুলি আজও বিরাজমান।আজও নারীদের বিয়ের‌ সময় পন দেওয়া হয়।বিভিন্ন দিক বিচার করলে এটা আবারও প্রমাণ হয়
যে নারীদের আগে মানুষ ভাবা হয়না,প্রথমেই তাদের ভাবা হয় কন্যা সন্তান হিসেবে।ব্যারিয়ার্স ভাঙতে হবে
নারীদের। নারীদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অত্যন্ত জরুরী।

আজ বেশিরভাগ নারীই সুশিক্ষিত, চাকুরীজীবী,ব্যাবসায়ী,নৃত্যশিল্পী,সঙ্গীত শিল্পী,বিনোদন জগতে সাড়া ফেলেছে।তবে সেটা নারীদের নিজস্ব জেদ ও প্রয়াস এবং নারীদের এই যাত্রার পেছনে রয়েছে দেবরুপ পুরুষদের প্রচেষ্টা।

নারীদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : সবকিছুর দিক থেকে নারীরা এগোতে থাকলেও একটি বিষয় নিয়ে নারীরা আজও ভাবেনি এবং আওয়াজ তোলেনি।তাই Women Empowerment নারীদের ক্ষেত্রে জাগরিত হয়নি বললেই চলে।

আজও নারীরা নায়িকা,নৃত্যশিল্পী ও নিজের অর্থ উপার্জন নিয়ে যতটা ভাবেন ততটা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে ভাবেননা।প্রধানমন্ত্রী,মুখ্যমন্ত্রী,
রাষ্ট্রপতি,অঞ্চলের প্রধান হবো এবং সমাজ ও দেশের বিষয়ে হাল ধরব এসব নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা সার্বজনীনভাবে নারীদের জেগে ওঠেনি ।
তাইতো নারীরা আজ স্বাধীনভাবে চলার চেষ্টা করলেও
রাজনীতিতে নারীরা আজও পিছিয়ে রয়েছে।Women Empowerment জোরদার সেদিন হবে যেদিন সমস্ত নারী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদের আসনে পুরুষ ও নারীর জন্য সমান বরাদ্দ চাই বলে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য সরব হবে।কিন্তু তার জন্য চাই স্বপ্ন।রাজনীতি পরিকাঠামোর অস্থিরতায় বেশিরভাগ পরিবার থেকে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারে না।
আর এই করেই নারীরা রাজনীতিতে পিছিয়ে যাচ্ছে।
রাজনীতিক পরিমন্ডলের লড়াইয়ের জন্যই এই চিন্তাভাবনা কাজ করেনা।বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই
একই চিত্র।সেদিক থেকে বিচার করলে নারীরা রাজনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

এই নারী দিবসে সকল নারীদের বলতে চাই রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের জায়গা বুঝে নিতে।
সংসদে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে দাবী তুলতে।

কোনো কাজই ছোটো নয়।তাই সৎ ও আদর্শ পথে অর্থ উপার্জন করতে।মা,বাবা, জীবনসাথী সকলের পাশে থাকতে পারবে।প্রতিটি নারীর উচ্চ থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিতে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া উচিত । কখনোই নিজেকে কারো সাথে তুলনা করবে না।নিজের ইচ্ছেকে দেখো এবং শুধু ভালো কাজগুলোই করো।ভয় পেয়োনা নারী।ভয়কে করো জয়।
তবেই তোমার লক্ষ্যের হবে জয়।

সর্বোপরি মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে।
বাঁচার মতো করে বাচঁতে।আর পরিবারকে মমত্ব ও ভালোবাসা দিয়ে বেঁধে রাখতে।

Facebook Comments Box