ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মা-বাবার ভূমিকা সন্তান গঠনে।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪ ১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রিয়াংকা নিয়োগী,
কোচবিহার,ভারত,
তারিখ:06.03.2024

ছি ছি একি বলছেন সন্চালিকা !মা সন্তানকে হাত খরচের জন্য টাকা দেন,তার জন্য অন্তত সন্তানের তার মাকে একটা সম্মান করতে হয়।এটা কোনো কথা হোলো?এই কথা যদি অনেক সন্তানের মনে দাগ কাটে তাহলে অনেকেই কিন্তু সেই ভাবনায় থাকবে।
আসলে মা বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক কখনোই দেনা পাওনার উপর নয়।মা-বাবা সন্তানের সবথেকে কাছের ও আপন হয়।একজন মানুষের বৈবাহিক জীবনের আগে একটি সন্তান তার মা-বাবাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়।সন্তানের সাথে মা-বাবার সম্পর্ক ভালো থাকলে কখনোই একটি সন্তান এমন কিছু করতে পারেনা যা তার পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করে ও তার পরিবারকে কষ্ট দেয় এবং পরিবারের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে একজন মানুষ কখনোই কোনো খারাপ কাজ করতে পারেনা।তাই সন্তানকে আগলে রাখতে হয়।
মায়া,মমতা,মমত্ববোধ এবং ভালোবাসা দিয়ে সন্তানকে তৈরী করতে হয়।নৈতিক শিক্ষা,আদর্শ এবং ভালো শিক্ষা সংস্কৃতির বীজ সন্তানের মধ্যে পুঁতে দেওয়া যাতে সন্তানের মধ্যে নিজের থেকেই দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ,
আদর্শ,সততা, বাস্তবতা কাজ করে,সন্তান নিজেই রাতে উপলব্ধি করতে পারে ভালো মন্দের পার্থক্য।ছোটোর থেকেই ভালো মন্দের পার্থক্য বোঝাতে হবে,যাতে সন্তান অপরাধ জগতে পা না বাড়ায়।সন্তান যত ভালো শিক্ষা পাবে তত ভালো হয়ে উঠবে।মেরুদণ্ড শক্ত করে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে ছোটোর থেকে।অন্যায় ও অপরাধের জন্য প্রতিবাদ করা শেখাতে হবে ছোটোর থেকে।একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারে তার জন্য সেইসব কথা বলতে হবে সন্তানের সাথে যা শুনে নিজে নিজেই একজন মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করে।প্রতিটি মানুষই যাতে তাকে পছন্দ করে,তার ব্যাক্তিত্ব‌ পছন্দ করে সেই শিক্ষা দিতে হবে মেয়ে বা ছেলেকে।সন্তানকে বোঝাতে হবে যাতে সে গুরুজনদের সম্মান করে চলে,সকলের সাথে ভালো আচরণ করে।কারো সাথে কোনো যাচিত ঝগড়া ও সমস্যা না করে।ভালো বিষয়গুলোর সাথে সন্তানের অভ্যাস গড়ানোর দায়িত্ব মা-বাবার।তাই একটি সন্তান প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে তার মা-বাবার দেওয়া শিক্ষা সংস্কৃতির ভূমিকা যথেষ্ট।

 

বাংলাদেশের একটি ফেসবুক খবরের
চ্যানেলে দেখলাম এক বড়োলোকের ছেলে মাদকাসক্ত তাকে বাংলাদেশের পুলিশে ধরে নিয়েছিলো।সমস্যার সমাধান করতে মা-বাবা-সন্তানকে একই সাথে ডাকা হয়
একটি টক শোতে।যে‌খানে বাস্তব বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।তেমনি সেই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছিলো পরিবারের তিনজন এসেছিলো। সেখানে দেখা গেলো সন্তান মা বাবার আয়ত্তের বাইরে।মা-বাবার বক্তব্য তারা সন্তানকে সবই দিয়েছে কিন্তু ঠিক করে সময় দিতে পারেননি।
ছেলেকে গাড়ি দিয়ে স্কুলে পাঠাতো।ছেলের মন রক্ষা করতে ছেলের ইচ্ছ মতো টাকা দিতো ছেলেটির মা।
কিন্তু অনুষ্ঠানটিতে দেখা গেলো ছেলেটার মা বাবা তাকে নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেনি।শেখাতে পারেনি দায়িত্ববোধ।ছেলেটির বাবা ছেলেটিকে শোনালো দেখো তোমার বয়সী তারা আছে তারা এখন বিদেশে পড়াশোনা করছে।তারপর তিনি এও বললেন তার ব্যাবসা ধরতে হবে। কিন্তু মা বাবারতো প্রথম চাওয়া পাওয়া এটাই হোতো নির্ভেজাল একজন ভালো মানুষ হওয়া।আসলে সন্তানকে টাকা দিলেও সুশিক্ষা দিতে পারেনি।মায়া মমতায় বাঁধতে পারেনি।যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষ কাছের মানুষদের মায়া মমতা না পাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে অনেক ভালো বিষয়ই ঢুকবে না।দিন দিন রুঠ হতে থাকবে মানসিকতা।

সন্চালিকাকেও বলতে শোনা গেলো ছেলেটিকে –
তোমার মা তোমাকে টাকা দেন তারজন্যত তোমার মা একটা সম্মান পান।

কতটা বিবেকহীন কথা বলেছেন সন্চালিকা এটা যারা বোঝার তারাই একমাত্র বুঝবেন।

টাকা পয়সার সাথে মা-বাবার সম্মানের কোনো সম্পর্ক নেই।এই জায়গাগুলো ধরতে হবে।সন্তানরা পরিবারের মান-মর্যাদা এবং উন্নয়ন ধরে রাখার পরবর্তী
ধাপ‌ হয়।তাই সন্তানকে সেভাবেই গড়তে হবে যাতে সন্তানের নিজের থেকে ভালো-মন্দ বোঝা ও ধড়ার ক্ষমতা থাকে।

সমাজে এমন কিছু মা বাবা আছে তারা নিজের থেকেও আত্মীয় স্বজনের সন্তানকে গুরুত্ব বেশি দেন।
যেগুলি তাদের সন্তানদের সাথে সম্পর্ক খারাপ করে ।
অথচ এই বিষয়গুলো সেই সমস্ত মা-বাবা কখনোই অনুভব করেননা।

সন্তান কি চায় বা সন্তানের মা-বাবার কাছ থেকে এক্সপেক্টেশন কি সেটা বুঝতে হবে মা-বাবাদের।

সর্বোপরি আপনি আপনার সন্তানকে যত ভালো কিছু শেখাবেন সন্তান তত ভালো হবে।

Facebook Comments Box

মা-বাবার ভূমিকা সন্তান গঠনে।

আপডেট সময় : ১২:১৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪

প্রিয়াংকা নিয়োগী,
কোচবিহার,ভারত,
তারিখ:06.03.2024

ছি ছি একি বলছেন সন্চালিকা !মা সন্তানকে হাত খরচের জন্য টাকা দেন,তার জন্য অন্তত সন্তানের তার মাকে একটা সম্মান করতে হয়।এটা কোনো কথা হোলো?এই কথা যদি অনেক সন্তানের মনে দাগ কাটে তাহলে অনেকেই কিন্তু সেই ভাবনায় থাকবে।
আসলে মা বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক কখনোই দেনা পাওনার উপর নয়।মা-বাবা সন্তানের সবথেকে কাছের ও আপন হয়।একজন মানুষের বৈবাহিক জীবনের আগে একটি সন্তান তার মা-বাবাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়।সন্তানের সাথে মা-বাবার সম্পর্ক ভালো থাকলে কখনোই একটি সন্তান এমন কিছু করতে পারেনা যা তার পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করে ও তার পরিবারকে কষ্ট দেয় এবং পরিবারের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে একজন মানুষ কখনোই কোনো খারাপ কাজ করতে পারেনা।তাই সন্তানকে আগলে রাখতে হয়।
মায়া,মমতা,মমত্ববোধ এবং ভালোবাসা দিয়ে সন্তানকে তৈরী করতে হয়।নৈতিক শিক্ষা,আদর্শ এবং ভালো শিক্ষা সংস্কৃতির বীজ সন্তানের মধ্যে পুঁতে দেওয়া যাতে সন্তানের মধ্যে নিজের থেকেই দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ,
আদর্শ,সততা, বাস্তবতা কাজ করে,সন্তান নিজেই রাতে উপলব্ধি করতে পারে ভালো মন্দের পার্থক্য।ছোটোর থেকেই ভালো মন্দের পার্থক্য বোঝাতে হবে,যাতে সন্তান অপরাধ জগতে পা না বাড়ায়।সন্তান যত ভালো শিক্ষা পাবে তত ভালো হয়ে উঠবে।মেরুদণ্ড শক্ত করে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে ছোটোর থেকে।অন্যায় ও অপরাধের জন্য প্রতিবাদ করা শেখাতে হবে ছোটোর থেকে।একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারে তার জন্য সেইসব কথা বলতে হবে সন্তানের সাথে যা শুনে নিজে নিজেই একজন মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করে।প্রতিটি মানুষই যাতে তাকে পছন্দ করে,তার ব্যাক্তিত্ব‌ পছন্দ করে সেই শিক্ষা দিতে হবে মেয়ে বা ছেলেকে।সন্তানকে বোঝাতে হবে যাতে সে গুরুজনদের সম্মান করে চলে,সকলের সাথে ভালো আচরণ করে।কারো সাথে কোনো যাচিত ঝগড়া ও সমস্যা না করে।ভালো বিষয়গুলোর সাথে সন্তানের অভ্যাস গড়ানোর দায়িত্ব মা-বাবার।তাই একটি সন্তান প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে তার মা-বাবার দেওয়া শিক্ষা সংস্কৃতির ভূমিকা যথেষ্ট।

 

বাংলাদেশের একটি ফেসবুক খবরের
চ্যানেলে দেখলাম এক বড়োলোকের ছেলে মাদকাসক্ত তাকে বাংলাদেশের পুলিশে ধরে নিয়েছিলো।সমস্যার সমাধান করতে মা-বাবা-সন্তানকে একই সাথে ডাকা হয়
একটি টক শোতে।যে‌খানে বাস্তব বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।তেমনি সেই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছিলো পরিবারের তিনজন এসেছিলো। সেখানে দেখা গেলো সন্তান মা বাবার আয়ত্তের বাইরে।মা-বাবার বক্তব্য তারা সন্তানকে সবই দিয়েছে কিন্তু ঠিক করে সময় দিতে পারেননি।
ছেলেকে গাড়ি দিয়ে স্কুলে পাঠাতো।ছেলের মন রক্ষা করতে ছেলের ইচ্ছ মতো টাকা দিতো ছেলেটির মা।
কিন্তু অনুষ্ঠানটিতে দেখা গেলো ছেলেটার মা বাবা তাকে নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেনি।শেখাতে পারেনি দায়িত্ববোধ।ছেলেটির বাবা ছেলেটিকে শোনালো দেখো তোমার বয়সী তারা আছে তারা এখন বিদেশে পড়াশোনা করছে।তারপর তিনি এও বললেন তার ব্যাবসা ধরতে হবে। কিন্তু মা বাবারতো প্রথম চাওয়া পাওয়া এটাই হোতো নির্ভেজাল একজন ভালো মানুষ হওয়া।আসলে সন্তানকে টাকা দিলেও সুশিক্ষা দিতে পারেনি।মায়া মমতায় বাঁধতে পারেনি।যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষ কাছের মানুষদের মায়া মমতা না পাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে অনেক ভালো বিষয়ই ঢুকবে না।দিন দিন রুঠ হতে থাকবে মানসিকতা।

সন্চালিকাকেও বলতে শোনা গেলো ছেলেটিকে –
তোমার মা তোমাকে টাকা দেন তারজন্যত তোমার মা একটা সম্মান পান।

কতটা বিবেকহীন কথা বলেছেন সন্চালিকা এটা যারা বোঝার তারাই একমাত্র বুঝবেন।

টাকা পয়সার সাথে মা-বাবার সম্মানের কোনো সম্পর্ক নেই।এই জায়গাগুলো ধরতে হবে।সন্তানরা পরিবারের মান-মর্যাদা এবং উন্নয়ন ধরে রাখার পরবর্তী
ধাপ‌ হয়।তাই সন্তানকে সেভাবেই গড়তে হবে যাতে সন্তানের নিজের থেকে ভালো-মন্দ বোঝা ও ধড়ার ক্ষমতা থাকে।

সমাজে এমন কিছু মা বাবা আছে তারা নিজের থেকেও আত্মীয় স্বজনের সন্তানকে গুরুত্ব বেশি দেন।
যেগুলি তাদের সন্তানদের সাথে সম্পর্ক খারাপ করে ।
অথচ এই বিষয়গুলো সেই সমস্ত মা-বাবা কখনোই অনুভব করেননা।

সন্তান কি চায় বা সন্তানের মা-বাবার কাছ থেকে এক্সপেক্টেশন কি সেটা বুঝতে হবে মা-বাবাদের।

সর্বোপরি আপনি আপনার সন্তানকে যত ভালো কিছু শেখাবেন সন্তান তত ভালো হবে।

Facebook Comments Box