ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ২৪ বার পড়া হয়েছে

আফছানা আক্তার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি ।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা এবং বিভিন্ন মহলকে এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে কোনও কারচুপি করা হবে না। দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হবে না, মন্ত্রী-এমপিরা এবং আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের নিজের প্রার্থীকে যদি জিতিয়ে আনার জন্য কোন রকম অবৈধ উপায় অবলম্বন করেন বা কারচুপি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এবার উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোন দলীয় প্রতীক ব্যবহার করছে না। উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান সুস্পষ্ট। আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাচনে কোন প্রার্থী দিচ্ছে না। তবে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা, তিনি যে পর্যায়ের হোন না কেন, যদি স্ব-উদ্যোগে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান তিনি করতে পারেন। তবে এরকম নির্বাচন করলে তিনি দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না।

ইতিমধ্যে মন্ত্রী-এমপিদেরকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে যে, উপজেলা নির্বাচনে যেন তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে কাজ না করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মন্ত্রী-এমপিরা ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাচনে তাদের নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তি বা মাইম্যানদের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এর ফলে উপজেলাগুলোতে এক ধরনের কোন্দল এবং বিভক্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা যে যার মতো করে পারছে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি নতুন সঙ্কট তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি অবশ্য এটিকে সঙ্কট মনে করছেন না বরং তিনি এটি জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি মাধ্যম হিসাবে মনে করছেন। উপজেলা নির্বাচনে যাই ফল হোক না কেন তা মেনে নেওয়া হবে। কোথাও প্রভাব বিস্তার করা হবে না।

তবে শুধু আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সর্তকবার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের কেউ যেন নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ না করে, কোনো প্রার্থীকে জেতানোর দায়িত্ব গ্রহণ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যে জিতবে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হবেন এরকম একটি বার্তা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে চলে গেছে। যার ফলে মন্ত্রী-এমপিরা তার পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও সেখানে তারা কোন ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছেন, প্রধানমন্ত্রী উপজেলা নির্বাচনকে একটি মডেল নির্বাচন করতে চান। দলীয় সরকারের অধীনে যে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে এবং জনগণ যেন স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে পারে তার সুস্পষ্ট একটি প্রমাণ রাখতে চায় আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে। একারণেই নির্বাচনে কোন রকম কারচুপি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের ভিতর যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে, সেই কোন্দলের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে এবং এটি নিয়ে সহিংসতাও হতে পারে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকার একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। এতে নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়বে। আওয়ামী লীগ সেটিই চাচ্ছে। ভোটারদের অংশগ্রহণের ফলে উপজেলা নির্বাচন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও এই নির্বাচনে যিনি জনপ্রিয় তিনিই জয়যুক্ত হবেন। কারণ জনগণ সবকিছু বিচার বিবেচনা করেই ভোট দিবেন। আর আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার কোন মাথা ব্যাথা নেই। বরং আওয়ামী লীগ দেখাতে চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। সূত্র ইনসাইড বাংলাদেশ।

 

 

Facebook Comments Box

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০১:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

আফছানা আক্তার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি ।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা এবং বিভিন্ন মহলকে এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে কোনও কারচুপি করা হবে না। দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হবে না, মন্ত্রী-এমপিরা এবং আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের নিজের প্রার্থীকে যদি জিতিয়ে আনার জন্য কোন রকম অবৈধ উপায় অবলম্বন করেন বা কারচুপি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এবার উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোন দলীয় প্রতীক ব্যবহার করছে না। উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান সুস্পষ্ট। আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাচনে কোন প্রার্থী দিচ্ছে না। তবে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা, তিনি যে পর্যায়ের হোন না কেন, যদি স্ব-উদ্যোগে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান তিনি করতে পারেন। তবে এরকম নির্বাচন করলে তিনি দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না।

ইতিমধ্যে মন্ত্রী-এমপিদেরকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে যে, উপজেলা নির্বাচনে যেন তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে কাজ না করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মন্ত্রী-এমপিরা ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাচনে তাদের নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তি বা মাইম্যানদের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এর ফলে উপজেলাগুলোতে এক ধরনের কোন্দল এবং বিভক্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা যে যার মতো করে পারছে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি নতুন সঙ্কট তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি অবশ্য এটিকে সঙ্কট মনে করছেন না বরং তিনি এটি জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি মাধ্যম হিসাবে মনে করছেন। উপজেলা নির্বাচনে যাই ফল হোক না কেন তা মেনে নেওয়া হবে। কোথাও প্রভাব বিস্তার করা হবে না।

তবে শুধু আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সর্তকবার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের কেউ যেন নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ না করে, কোনো প্রার্থীকে জেতানোর দায়িত্ব গ্রহণ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যে জিতবে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হবেন এরকম একটি বার্তা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে চলে গেছে। যার ফলে মন্ত্রী-এমপিরা তার পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও সেখানে তারা কোন ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছেন, প্রধানমন্ত্রী উপজেলা নির্বাচনকে একটি মডেল নির্বাচন করতে চান। দলীয় সরকারের অধীনে যে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে এবং জনগণ যেন স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে পারে তার সুস্পষ্ট একটি প্রমাণ রাখতে চায় আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে। একারণেই নির্বাচনে কোন রকম কারচুপি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের ভিতর যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে, সেই কোন্দলের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে এবং এটি নিয়ে সহিংসতাও হতে পারে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকার একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। এতে নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়বে। আওয়ামী লীগ সেটিই চাচ্ছে। ভোটারদের অংশগ্রহণের ফলে উপজেলা নির্বাচন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও এই নির্বাচনে যিনি জনপ্রিয় তিনিই জয়যুক্ত হবেন। কারণ জনগণ সবকিছু বিচার বিবেচনা করেই ভোট দিবেন। আর আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার কোন মাথা ব্যাথা নেই। বরং আওয়ামী লীগ দেখাতে চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। সূত্র ইনসাইড বাংলাদেশ।

 

 

Facebook Comments Box